ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার দুই দিনের মাথায় ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও সালাহউদ্দিন প্রদেশের মার্কিন বিমান ঘাঁটির কাছে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা হয়েছে।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অন্তত একটি রকেট বা মর্টার গ্রিন জোনের সেলিব্রেশন স্কয়ারে আঘাত করে। এলাকাটি মার্কিন দূতাবাসের পাশেই। আরেকটি মর্টার হামলা হয়েছে বাগদাদের জাদ্রিয়া এলাকায়। সেটিও গ্রিন জোনের কাছে অবস্থিত।
এছাড়া দুটো রকেট আঘাত হেনেছে রাজধানী উত্তরে অবস্থিত বালাদ বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে ইরাকে সক্রিয় মার্কিন সেনা সদস্যদের বসবাস।
দুই স্থানে ১০ জন আহত হলেও এ পর্যন্ত কেউ নিহত হয়নি বলে বিবৃতি দিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী।
এখনো রকেট হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও মার্কিন স্থাপনা বা সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক সব হামলার জন্যই দায়ী করা হয়েছে ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীকে।
অন্যদিকে তেহরান মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানলে জবাবে ইরানের ৫২ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হুমকি চায় না।
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, জেনারেল সোলাইমানির মৃত্যুর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্থাপনা ও সম্পত্তিতে আঘাত হানার কথা অনেক দম্ভভরে বলছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ৫২টি স্থাপনা ও এলাকা চিহ্নিত করে রেখেছে, যার বেশ কয়েকটি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের এবং ইরান ও ইরানের সংস্কৃতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালালে ইরান নিজেই খুব দ্রুত এবং খুবই ভয়াবহভাবে আঘাতের শিকার হবে,’ বলেন ট্রাম্প।
মার্কিন হামলায় শুক্রবার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুতে ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, হামলাকারীদের জন্য বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। নিহত কাসেম সোলাইমানির জানাযায় রোববার তিনি নিজে ইমামতি করবেন বলেও জানিয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন, সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে যুদ্ধ থামাতে, বাঁধাতে নয়, কিন্তু ও হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান-মধ্যপ্রাচ্য। এ ঘটনায় সব পক্ষের প্রতি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস।







