দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহার চেয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ইরাকের পার্লামেন্ট। বাগদাদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিবাদে এ প্রস্তাবটি পাস করা হলো। তবে সৈন্য প্রত্যাহার করতে অর্থ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার পার্লামেন্ট অধিবেশন শেষে পার্লামেন্টের মিডিয়া অফিসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সিএনএন জানায়, অধিবেশনে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। সেই রকেট হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শুক্রবারের ওই রকেট হামলার ফলে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে ইরাককে বাধ্য করেছে নিজ মাটিতে আমেরিকান সেনার অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে।
আল-জাজিরা জানায়, রোববারই ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভে লা দ্রিয়ানকে ফোন করে জানিয়েছেন, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ থেকে বিদেশি সেনাদল প্রত্যাহার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
টাকা না দিলে যাবো না: ট্রাম্প
ইরাকি পার্লামেন্টে পাস হওয়া সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জবাবে ইতোমধ্যে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়ে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা সেখানে যে বিমানঘাঁটি নির্মাণ করেছি, সেটা অত্যাধিক ব্যয়বহুল। সেটি নির্মাণ করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে আমাদের। আমরা ততক্ষণ সেখান থেকে সরবো না, যতক্ষণ না ইরাক সরকার আমাদেরকে পুরো অর্থ ফিরিয়ে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, যদি ইরাকি সরকার অ-বন্ধুসুলভভাবে মার্কিন সেনাবাহিনীকে ইরাক থেকে সরে যেতে বলে তাহলে তাদের ওপর এমন কঠোর অবরোধ আরোপ করা হবে, যা তারা এর আগে কখনো দেখেনি।
‘সেগুলোর সামনে ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ সামান্য মনে হবে,’ বলেন তিনি।
জঙ্গি সংগঠন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক সেনাজোটের অংশ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা সদস্য বর্তমানে ইরাকে অবস্থান করছে।
রোববার সোলাইমানির মরদেহ ইরাক থেকে নিজ দেশ ইরানে নেয়া হলে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন লাখো মানুষ। মরদেহ স্থানীয় একটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই ঢল নামে জনতার। তার জানাযায় শরিক হন সব শ্রেণিপেশার অসংখ্য মানুষ।
সোমবার কয়েক দফা নামাজে জানাযার পর মঙ্গলবার জন্মস্থান কেরমানেই তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।








