ঐতিহাসিক এক ক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে কেনিংটন ওভাল স্টেডিয়াম। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে যখন মাঠে নামবে ইংল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকা, অনন্য এক এলিট ক্লাবে নাম লেখাবে দেড়শ বছর পুরনো ইংলিশ ক্রিকেট মাঠটি। ১৩৭ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ মাঠ হিসেবে ১০০টি টেস্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে কেনিংটন ওভাল। ক্রিকেটের ‘মক্কা’খ্যাত লর্ডসের পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় মাঠ হিসেবে এই অসাধারণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ওভাল।
১৮৫৩ সালে ক্রিকেটের মাঠ হিসেবে জন্ম নেওয়া ওভাল দেখেছে অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সাক্ষী হয়েছে ঐতিহাসিক সব রেকর্ডের, জন্ম দিয়েছে কালজয়ী দ্বৈরথের। ওভালের সেরা ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।
অ্যাশেজের জন্ম, ১৮৮২

ক্রীড়াবিশ্বের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ এবং মর্যাদাকর ট্রফির শেকড়টা পোতা হয়েছিল এই ওভালেই। ১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে লজ্জাজনক হারের পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এপিটাফটা দেখতে পাচ্ছিলেন অনেকেই। লজ্জা ভুলে পরের শীতে যখন অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ইংলিশরা, দলটির অধিনায়ক আইভো ব্লিগের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় একটি স্টাম্প বেলের ছাইভস্ম ভরা ছোট এক পাত্র। ব্যাস, এভাবেই জন্ম অ্যাশেজের।
লেন হাটনের ঐতিহাসিক নক, ১৯৩৮

অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ান স্পিনারযুগল বিল ও’রিলি এবং চাক ফ্লিটউডের বোলিংয়ের সামনে কাঁপছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। এমন এক অগ্নিগর্ভ সময়ে সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়লেন ২২ বছর বয়সী লেন হাটন। তার ব্যাট থেকেই এল তখনকার সময়ের টেস্ট সর্বোচ্চ ৩৬৪ রানের ইনিংস। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের রেকর্ড গড়া ইনিংসে অজিদের বিপক্ষে ইনিংস এবং ৫৭৯ রানের বিশাল জয় পায় ইংলিশরা। হাটনের সেই ইনিংসটি একক সর্বোচ্চ রান হিসেবে টিকে ছিল পরের কয়েক দশক।
স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের বিখ্যাত শূন্য, ১৯৪৮

স্যার ডন ব্র্যাডম্যান জীবনের শেষ টেস্ট খেলেছেন এই ওভালেই। সেই টেস্টে আর মাত্র ৪ রান করলেই ১০০ রানের গড় নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারতেন ক্রিকেটের ডন। কিন্তু এরিক হলিসের বল ফাঁকি দিয়ে ভেঙ্গে দেয় তার স্ট্যাম্প। ক্রিকেটের পথে খুব একটা গোল্লা না পাওয়া ব্র্যাডম্যানের জীবনে সেই শূন্য ছিল ভীষণ আক্ষেপের প্রতিরূপ। এতে কিংবদন্তির টেস্ট ক্যারিয়ার যে শেষ হয়েছিল ৯৯.৯৪ গড় নিয়ে!
ক্যারিবিয়ানদের কাছে ইংলিশদের দম্ভচূর্ণ, ১৯৭৬

ইংলিশ অধিনায়ক টনি গ্রেগ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে করেই হোক ওয়েস্ট ইন্ডিজের দম্ভচূর্ণ করবেন, ওভালকে পরিণত করবেন উইন্ডিজদের ‘গ্রোভালে’। কিন্তু হয়েছিল উল্টোটা। লজ্জা নিয়েই সিরিজ শেষ করতে হয় ইংলিশদের। সিরিজের পঞ্চম টেস্টটি ছিল আরও লজ্জার। ২৯১ রানের ইনিংস খেলার পথে রেকর্ড ৩৮টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন স্যার ভিভ রিচার্ডস। আর মাইকেল হোল্ডিং তুলে নিয়েছিলেন ১৪টি উইকেট। পাঁচ টেস্টের সবগুলো হেরে ধবলধোলাই হয়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
মুরালিধরনের ১৬ উইকেট, ১৯৯৮

আট শতাধিক টেস্ট উইকেট নেয়া মুত্তিয়া মুরালিধরন ভুলতে পারবেন না ওভালকে। এক টেস্টে নিজের সেরা ও স্মৃতিময় অর্জন মনে করা ১৬ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি যে এখানেই গড়েছেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশদের দাঁড়াতেই দেননি এই লঙ্কান অফস্পিনার। ৬৫ রান খরচায় একাই নিয়েছেন ৯ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২২০ রানে মোট ১৬ উইকেট। লঙ্কানরাও পেয়েছিল ১০ উইকেটের বিশাল জয়।
চোটজর্জর স্টিভ ওয়াহর সাহসী নেতৃত্ব, ২০০১

সোনালী যুগে অজিদের সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভ ওয়াহ। তবে ওয়াহর সবচেয়ে দুঃসাহসী নেতৃত্বের দেখা মিলেছিল এই ওভালেই। দলের দুঃসময়ে কাফ মাসলের চোট সত্ত্বেও ব্যাটিং করা থেকে সরে যাননি ওয়াহ। ক্রিজে কাতরেছেন বারবার, কিন্তু ব্যাটিং ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত ভারী দুটো পা নিয়েই হাঁকিয়েছেন শতক। জিতিয়েছেন দলকেও।
ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার, ২০০৫

অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের হাহাকারটা ক্রমেই বড় হচ্ছিল। ১৯৮৯ সালের পর থেকে যে ছাইভস্মে আর হাতই দেয়া হয়নি ইংলিশদের। পরে এই ওভালেই দীর্ঘ ১৬ বছরের আক্ষেপটা ঘুচিয়েছে ইংল্যান্ড। কেভিন পিটারসেন নামক এক আনকোরা তরুণের ১৫৮ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসে জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছিল স্বাগতিকরা। নাটকীয় এক জয়ে পরে অ্যাশেজ সিরিজটাই নিজেদের দখলে নেয় ইংলিশরা।










