ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে সরে আসার পক্ষেই ভোট দিয়েছে ব্রিটেনের জণগন। ৫১.৯ শতাংশ লিভ ভোট দিয়ে অভিবাসন নীতি, শরণার্থী সংকট, অর্থনৈতিক নীতি, ব্রিটিশ ঐতিহ্য রক্ষার দাবির প্রতিই সংহতি জানালো তারা। ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে ব্রিটেনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের গণনা শেষে এমনটি জানিয়েছে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
‘ইইউ থেকে বেরিয়ে এলে ৫০ কোটি মানুষের বাজার হারাবে ব্রিটেন’ রিমেইন পক্ষের এমন প্রচারণা সত্যেও হারই মেনে নিতে হলো তাদের। ই্ইউ’তে যোগ দেওয়ার ৪৩ বছর পরে এই না থাকার সিদ্ধান্ত কী প্রভাব ফেলে তা দেখতে শঙ্কাভরে অপেক্ষায় সারাবিশ্ব। ইতিমধ্যে মুদ্রাবাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে। ১৯৮৫ সালের পরে পাউন্ডের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে।
৫০ শতাংশের চেয়ে একটি ভোটও বেশি পেলে যেখানে জয় নিশ্চিত হতো সেখানে লিভ পেয়েছে ৫১.৯ শতাংশ। আর রিমেইন পেয়েছে ৪৮.১ শতাংশ। লিভের পক্ষে মোট ভোটের সংখ্যা ১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪২ টি এবং রিমেইনের পক্ষে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ টি।
৪ কোটি ৬৫ লাখ ১ হাজার ২৪১ জন ভোটার দেশ জুড়ে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়। ভোট প্রদানের হার ৭২.২ শতাংশ। এর মধ্যে আবার অফিসিয়াল চিহ্ন না থাকা, একের অধিক পক্ষাবলম্বন, ব্যালেট প্যাপারে ছাপা নাম্বার বা স্বতন্ত্র চিহ্নিতকরণ মার্ক ছাড়া ভোটারকে চিহ্নিত করা যায় এমন লেখা বা ছাপ ব্যবহারের কারণে ২৬ হাজার ৩৩ টি ব্যালেট প্যাপার বাতিল করা হয়।
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলসের ৩৮০টি এবং নর্দান আয়ারল্যান্ড ও জিব্রাল্টারের জন্য একটি করে মোট ৩৮২টি ভোট গণনা কেন্দ্রে গণনা শেষে ফলাফল নিজ নিজ গণনা কর্মকর্তার কাছে প্রদান করে। পরে যুক্তরাজ্যের ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চল এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডসহ মোট ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ভোটের ফল ঘোষণা করবে।
নর্দান আয়ারল্যান্ড এবং স্ককল্যান্ডে রিমেইনের পক্ষে বেশি ভোট পরলেও ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে লিভের পক্ষে বেশি ভোট পরে। পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মূলত অধিকসংখ্যক ভোটার থাকা ইংল্যান্ড।
প্রতিটি অঞ্চলেই ভোট গণনা সমাপ্ত হলে ইলেকটোরাল কমিশনের চেয়ারওম্যান এবং প্রধান কাউন্টিং অফিসার জেনি ওয়াটসন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সময় শুক্রবার সকালে ম্যানচেস্টার টাউন হল থেকে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করবে।
এই গণভোটের নিয়ম অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতেই জাতীয়ভাবে ভোট পুর্নগণনার কোন সুযোগ নেই। তবে যেকোন গণনা কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনার আবেদন হলে, বিষয়টিতে স্থানীয় কাউন্টিং অফিসার সিদ্ধান্ত নেবে।
ফল ঘোষণার পরে কেউ একে চ্যালেঞ্জও করতে পারে। তবে শুধুমাত্র বিচারিক পর্যালোচনার জন্যই তার আবেদন করতে হবে এবং তা ফল ঘোষণার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে। গণভোটের এই ফল ইইউ ত্যাগে কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে না। বৃটেনের সংসদে এর জন্য আইন পাশ করতে হবে, যার সূচনা করতে হবে ইউরোপিয়ান কমিউনিটি আইন ১৯৭২ প্রত্যাহারের মাধ্যমে।
এই গণভোটের আগে অবশ্য ইউগভ এর জরিপে দেখা গিয়েছিলো যে ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ ইইউতে থাকার পক্ষে রয়েছে। বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে ৪৮ শতাংশ। যা সম্পূর্ণ বিপরীতভাবেই সত্য হলো।
ভোট লিভ এর প্রচারকরা অভিবাসীদের ব্রিটেনে আসা বন্ধ করতে চায়। অন্যদিকে রিমেইন গ্রুপ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে ৫০ কোটি মানুষের বাজার হারাবে ব্রিটেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে ভোটের আহবান জানিয়েছিলেন। বিরোধী লেবার পার্টিও ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী ও টিউলিপ সিদ্দিকও ইইতে ব্রিটেনের থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এই সকলের আহবানকে প্রত্যাখ্যান করে ১৯৭৩ সালের পহেলা জানুয়ারি যে সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিলো তার সমাপ্তির পক্ষেই রায় এলো।










