তহবিলে দাতাদের সহায়তা ছাড়া ইউনিসেফের পক্ষে মিয়ানমারে ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য জীবনদানকারী সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৫৮২,০০০ অভিবাসীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশু। আরো হাজার হাজার শিশু প্রতি সপ্তাহে বর্ডার অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানিয়েছে, আগামী ৬ মাস রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬ মিলিয়ন জরুরি সহায়তার মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ ইউনিসেফের কাছে আছে। তাই দ্রুত দাতাদের সহায়তা তাদের দরকার।
দাতাদের তালিকায় রয়েছেন জাতিসংঘের অফিস ফর দি কোঅর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স নিয়ন্ত্রিত সেন্ট্রাল এমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ড, কানাডার সরকার, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউনিসেফের ফ্রান্স, জার্মান, জাপানি, মালয়েশিযান, সুইস, ইউকে ও ইউএস জাতীয় কমিটি। সেই সঙ্গে কিং আব্দুল্লাহ ফাউন্ডেশন এবং এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে।
আরো অর্থ সহায়তা ছাড়া যেসব সমস্যার মুখে পড়বে ইউনিসেফ, সেগুলোও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে।
১) নভেম্বরের শেষ নাগাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য আমাদের পানি সরবরাহ করা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এসব মানুষের নিরাপদ পানির সুযোগও নেই।
২) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আমরা ১৮০টি পানি কেন্দ্র বানিয়েছি, কিন্তু আরো ৩৫০,০০০ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪০০ পানি কেন্দ্র সেখানে বানানো সম্ভব হবে না।
৩) আমরা ৩,৭০০ টয়লেট বানিয়েছি, আরো কিছু সম্পদ না থাকলে আরো ২৫০,০০০ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ১২,০০০টি টয়লেট বানাতে পারবো না।
৪) জীবননাশক ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য রেডি-টু-ইউজ থেরাপিউটিক খাবার আমরা ১৫ হাজার শিশুকে দিতে পারবো না।
৫) ৮০ হাজার শিশু কোনো মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে না এবং নতুন আসা আরো ১ লাখ অভিবাসী শিশুর রুবেলা, পোলিওর মতো রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সমর্থ হয়ে উঠবে না।
৬) পানিবাহিত রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা যথাযথভাবে সহায়তা করতে পারবো না। কারণ আমাদের তখন প্রশিক্ষিত কর্মী ও যথাযথ উপকরণ থাকবে না।
৭) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুগুলো আরো ভুলপথে চলে যাবে, কারণ তাদের সহায়তা দরকার হবে।
রোহিঙ্গা শিশুরা এর মধ্যেই অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা যেমন আশ্রয়, খাবার, পানি, টিকা, নিরাপত্তা ইত্যাদি দরকার। আর সেটা কাল, পরের সপ্তাহে বা পরের মাসে নয়, এক্ষুনি। ইউনিসেফ তাদের দাতাদের কাছে এসব শিশুদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার অর্জনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।









