ব্যাটে-বলে একাধিকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও অভিষেক টেস্টে রূপকথা লেখা হল না আয়ারল্যান্ডের। প্রথম ইনিংস ছাড়া পুরো ম্যাচেই লড়াই করেছে তারা, কিন্তু শেষপর্যন্ত হারই মানতে হয় আইরিশদের। স্বাগতিকরা পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ৫ উইকেটে।
অস্ট্রেলিয়ার পর প্রথম দল হিসাবে অভিষেক টেস্ট জেতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের। লড়াইটা জমিয়েও প্রথম ইনিংসে কম রান করার মূল্য চোকাতে হয়েছে দলটিকে।
প্রথমদিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় আইরিশদের অভিষেক ম্যাচটা হয়ে দাঁড়ায় চারদিনের টেস্ট। তাতে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩১০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাব দিতে নেমে ১৩০ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে আয়ারল্যান্ড।
পরে দ্বিতীয় ইনিংসে অভিষেক টেস্টে বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক হাঁকিয়ে দলকে ঐতিহাসিক কিছুর দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। চতুর্থ দিন দারুণ ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড। ৩ উইকেট হাতে রেখে ১৩৯ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করে।
কিন্তু টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে মাত্র ২১ রান যোগ করেই বাকি উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। আগের দিনের ১১৮ রানের সঙ্গে এদিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি ও’ব্রায়েন।
দ্বিতীয় ইনিংসে আয়ারল্যান্ড ৩৩৯ রানে অলআউট হওয়ার পর পাকিস্তানের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৬০ রানের। এই রানেই জয়ের আশা করছিল স্বাগতিকরা। স্কোর বোর্ডে যতটা না ভরসা ছিল আইরিশদের, তার চেয়ে বেশি ভরসা ছিল পাকিস্তানের ইতিহাস। গতবছরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানিরা। তাছাড়া বিশ্বের সেরা আনপ্রেডিক্টেবল চরিত্রটা তো তাদের নামের সঙ্গেই যায়!
লঙ্কান বিপর্যয়ের সেই চিত্র টিভি স্কিনে বারবার দেখানোতেই কিনা শুরুতে গর্জে ওঠেন আয়ারল্যান্ডের বোলাররা। স্কোরবোর্ডে ১৪ রান উঠতেই পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নেন তারা। একে একে ফিরে যান আজহার আলী (২), হারিস সোহেল (৭) ও আসাদ শফিক (১)।
সেখান থেকে আয়ারল্যান্ডের আশায় জল ঢেলে দেয় ইমাম-উল হক ও বাবর আজমের ১৩৬ রানের জুটি। প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল হকের ভাতিজা হওয়ায় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই সমালোচনার মুখে ছিলেন ইমাম। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতায় সমালোচনা আরো বাড়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে জবাবটা দিয়ে দেন এই তরুণ বাঁহাতি। দল জেতানো ৭২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ইনজির ভাতিজা। ব্যক্তিগত ৫৯ রানের সময় রানআউট হন বাবর।
শেষবেলায় পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। চাপটা আরেকটু বাড়ে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ৮ রানে ফিরে গেলে। তবে প্রথম ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান শাদাব খানকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা ভালোভাবেই শেষ করেন ইমাম।
ম্যাচসেরা হয়েছেন দেশের অভিষেকে অভিষিক্ত সেঞ্চুরিয়ান কেভিন ও’ব্রায়েন। জিততে না পারলেও কেভিনের কীর্তির সঙ্গে অভিষেক টেস্টে আইরিশদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের সাহসী লড়াই আর মাচ শেষে পাকিস্তানের সঙ্গে তোলা গ্রুপ ছবিটা।







