ঠিক আঠেরো নয়, আয়াক্সের আঠেরো পেরোনোরাই এ বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কারও বয়স ১৯, কেউ কুড়িতে পা দিয়েছেন, কেউবা আবার ২১। এদের তারুণ্যের আগুনেই পুড়ে ছাই হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা ও ব্যালন ডি অর জয়ী লুকা মদ্রিচের রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের আগুনের শিখার সামনে পড়ে কোথায় হারিয়েছে পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাস! কোনো বাধাই যেন তাদের কাছে বাধা নয়। ডাচ তরুণদের খেলা দেখে চোখ জুড়চ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।
মঙ্গলবার আরও একবার তাদের দেখা যাবে। এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে। লন্ডনে টটেনহ্যামের নতুন স্টেডিয়ামে আগুন জ্বালাতে নামবেন ফ্রেঙ্কি ডি জং, মাথিস ডি লিট, ডেভিড নেরেসরা। সঙ্গে থাকবেন একটু অভিজ্ঞ দুসান তাদিচ, হাকিম জিয়েখরা।
এই ম্যাচের আগে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন আয়াক্সের সাবেক এবং একসময়ে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট। সাবেক ক্লাবের তরুণদের প্রতি তার মন্তব্য, ‘যখন তোমরা রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসকে ছিটকে দিয়েছ, তখন আর কাউকে নিয়ে নার্ভাস হওয়ার নেই। আয়াক্স খেলোয়াড়দের বলব, সাহসী হও। নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলো। মাথায় কোনো চিন্তা রেখো না। ঝুঁকি নাও। আর সবচেয়ে বেশি ম্যাচটা উপভোগ করো।’
প্রথম সেমিফাইনালে আয়াক্সের প্রতিপক্ষ টটেনহ্যামও অবশ্য চমক দেখিয়েছে। মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল কিছুটা একই মডেলের ফুটবলে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
যদিও মঙ্গলবার আয়াক্সেসের বিরুদ্ধে নামার আগে তার মাথায় চিন্তা অনেক। হ্যারি কেন চোটের জন্য নেই। তার সঙ্গে ফর্মে থাকা সন হিউং মিনকেও কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে পাচ্ছে না টটেনহ্যাম। এছাড়া চোটের জন্য হটস্পার দলে নেই সের্জে অরিয়ের, এরিক লামেলা এবং হ্যারি উইঙ্কস। ইতিবাচক দিক বলতে মৌসা সিসোকো এবং জান ভার্টোঙ্গেনের সোমবার অনুশীলন করা। এই দু’জনকে হয়তো পাবেন পচেত্তিনো।
টটেনহ্যাম শেষ আটে ছিটকে দেয় পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে। আয়াক্সের স্টাইলও অনেকটা গার্দিওলার দলের মতোই। বল পজেশনে রেখে পাসিং নির্ভর ফুটবল খেলে। টেন হাগের আয়াখস যেমন খেলছে। যেভাবে তারা সান্টিয়াগো এবং তুরিনের অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রভাব বিস্তার করেছিল। রিয়ালকে তাদের ঘরের মাঠে ৪-১ এবং তুরিনে রোনালদোদের বিরুদ্ধে জিতেছিল ২-১ আয়াক্স।
ফলে পচেত্তিনোর জন্য কী অপেক্ষা করছে? ডাচ আগুনের সামনে কী করবে টটেনহ্যাম? শনিবার নিজেদের নতুন স্টেডিয়ামে ওয়েস্টহ্যামের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হেরেছে টটেনহ্যাম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে নামার আগে যা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। বিশেষ করে আয়াক্স যখন অ্যাওয়ে ম্যাচেই পরপর বড় প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করেছে।
এ বিষয়টি টটেনহ্যাম কোচ পচেত্তিনোর নজরও এড়ায়নি। ম্যাচের আগেরদিন তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে মানে তাদের দল দুর্দান্ত। শুধু খেলোয়াড় নয়, কৃতিত্ব প্রাপ্য তাদের কোচেরও। এরিক তার নিজের ভাবধারা দারুণভাবে দলের মধ্যে ঢুকিয়েছে। তিনি দারুণ কাজ করছেন।’
আয়াক্সের তরুণ ফুটবলারদের মতো পচেত্তিনোও প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শেষ চারে। নিজেই বলেছেন, ‘আগে কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে যাইনি। তাই আমি নতুন কিছু অভিজ্ঞতার জন্য তৈরি হচ্ছি।’







