ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন চলছে। রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছিল গত বর্ষার পরপরই, কিন্তু এখনো অনেক কাজ মাঝপথে এসে আটকে আছে।
আবার কিছু কাজ চলছে ঢিমে তালে। এর ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসী। রিকশা চলছে ইটবিছানো পথেই। হাঁটতে গেলেও নানা বাধা, হয়ত বালু ফেলা হয়েছিল পাঁচ-ছয় মাস আগে, সেগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে গেছে ড্রেনে। ফলে ড্রেনের ময়লা যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বাসাবাড়ির ময়লা ড্রেন উপচে রাস্তায় এসে পড়ছে। আবার কোথাও রয়েছে ইট-সুরকির ঢিবি, হাঁটতে গেলে সুরকি পায়ের নিচে পড়ে, সাবধানে না পা ফেললে মচকানোর ভয় থাকছেই।
নির্দিষ্ট পথ দিয়ে রিকশা না চলতে পারায় ঘুরতে হচ্ছে অনেকটা পথ। গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। সব মিলিয়ে নগরবাসীর অবস্থা খুব একটা স্বস্তিকর নয়।
আর কিছুদির পরেই আসছে বৈশাখ মাস। শুরু হবে ঝড়-বৃষ্টি। তারপরেই আসবে বর্ষাকাল। গত বছরের অভিজ্ঞতার কথাই যদি ধরি, দিনভর বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের অনেক রাস্তাকে আর রাস্তা মনে হয়নি। রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে করিয়ে দিয়েছিল- ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে…।’

ঢাকা শহরের কোথাও কোথাও নৌকাও চলেছিল। রাস্তা ডুবে ছিল পানিতে। রাস্তার যেখানে-সেখানে ছিল খানাখন্দ। বৃষ্টির ভেতর শিশু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রিকশা উল্টে দুর্ঘটনার খবরও আমাদের চোখে পড়েছিল।
এবারও কি সে রকম খবর আমাদের পত্রিকা আর টেলিভিশনের খবরে দেখতে হবে? প্রশ্নটা থাকল যারা ঢাকাসহ সারাদেশে উন্নয়ন কাজ করছেন তাদের কাছে, সেইসব সংস্থা আর সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের কাছে।
অভিযোগ রয়েছে, যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তারা ইচ্ছে করেই রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ির কাজে ঢিলেমি দিয়ে থাকে। এর কারণ হিসেবে রয়েছে-যদি উন্নয়ন কাজ চলার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেই পড়ে তা হলে কাজের মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন করার মওকা পাবে না। সোজা বলে দেয়া যাবে- ‘বৃষ্টির কারণে সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা কাজে কোনো গাফিলতি করিনি।’
সুতরাং যেনতেনভাবে কাজ করে ঠিকাদাররা বিল ঠিকই তুলে ফেলবে। বিল আটকানোর সাহস কার আছে? কারণ যে কাজগুলো হচ্ছে এর বেশিরভাগই করছে তারা, যারা কোনো না কোনোভাবে জড়িত সরকারি দলে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ এড়াতে এখনই সরকারের সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের তদারকি প্রয়োজন। কাজ যারাই করছেন যেন বর্ষার আগেই শেষ করতে পারেন বা করেন সেজন্য চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। তা না হলে এবারও আমাদের দেখতে হবে মানুষের দুর্ভোগ শিশুদের নিয়ে, মায়েদের সীমাহীন কষ্টের চিত্র।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধানে যারাই নগরবাসীর উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন তাদের একটু মানবিক দৃষ্টিই পারে এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ দিতে। শুধু অর্থের দিকে তাকিয়ে না থেকে মানুষের অসহায়ত্বকে বিবেচনা করে দ্রুত কাজ করে রাস্তাঘাটের অবস্থা সুন্দর ছিমছাম করলেই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হওয়া যাবে। অন্যথায় মনে হবে শুধু সরকারি কাজ পাওয়ার জন্যই সরকারি দলে নাম লিখিয়ে ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরোক্ষভাবে সরকারের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার জন্যই গোপনে সরকারি দলে নাম লিখিয়েছেন কেউ কেউ।
রাস্তাঘাটের খোঁড়াখুঁড়ি দ্রুত শেষ করে সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করাই হবে নির্বাচনের বছরে প্রকৃত ঠিকাদারদের দলকে ভালোবাসার পরিচয়।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







