কক্সবাজারের টেকনাফে যাত্রীবাহী একটি বাস থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিকাশের তিন কর্মীর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তরে ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মো. আরমান (২৪), সাকিব (২১) এবং একরাম (২২)। তারা সবাই টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা এবং বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির সেলসম্যান। তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাসের চালক, আহত ব্যক্তি এবং যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পালকি পরিবহনের একটি বাস টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা সড়কে পেরেক সংযুক্ত কাঠের খণ্ড ফেলে বাসটি থামিয়ে দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে বাসে উঠে বিকাশের তিন কর্মীকে মারধর করে এবং গুলি ছোড়ে। এরপর তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা লুট করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পাশের পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
বিকাশের ওই তিন কর্মী জানান, তারা হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এজেন্টদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এর আগে টেকনাফের সীমান্ত ব্যাংক থেকে ৫৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন।
আহত বিকাশ কর্মী মো. আরমান দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে বাসচালক বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, তারা নগদ টাকা বহন করছেন, এ তথ্য দুর্বৃত্তরা কীভাবে জানল এবং গুলি শুরু হওয়ার পরও বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে কেন থেমে ছিল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারগামী একটি বাস থামিয়ে বিকাশের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে লুট হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অবস্থান করছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।







