১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া আলাদিন দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিল। তবে ছবিতে কিছু গুরুতর ভুল ছিল। ডিজনি চেষ্টা করেছে ২৪ মে মুক্তি পাওয়া আলাদিন-এ এই ভুলগুলো না রাখতে। কিন্তু তার পরেও বেশ কিছু ভুল রয়েই গেছে এবারের ছবিতেও।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি হলিউডের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন আলাদিন সিনেমার কিছু ভুল নিয়ে ‘কোয়ার্টজ’-এ মতামত জানিয়েছেন এভেলিন আলসুলতানি। এভেলিন আলসুলতানি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার আমেরিকান স্টাডিজ অ্যান্ড এথনিসিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।
ছবির আগের ভুলগুলো শুধরে নিতে ডিজনি যোগাযোগ করেছিল মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু মুসলিম স্কলার, অ্যাকটিভিস্ট এবং ক্রিয়েটিভ মানুষের সঙ্গে। তাদের থেকে ছবির ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ নেয়া হয়েছে। এই তালিকায় এভেলিন আলসুলতানিও ছিলেন। এভেলিন আলসুলতানির মতে, আগের বেশ কিছু ভুল শুধরে লাইভ অ্যাকশন-এর ‘আলাদিন’ সফলতা অর্জন করলেও কিছু ভুল রয়েই গেছে ছবিতে।
এভেলিন বলেন, আগে হলিউডে মধ্যপ্রাচ্যকে দেখানো হতো যাদুর শহর হিসেবে। মরুভূমিতে জ্বিন উড়ে বেড়ায়, শেখরা প্রাসাদে থাকে হেরেমের নারীদের নিয়ে, এমনটাই দেখানো হতো। আর ছবির বিষয়বস্তু যদি সেরকম না হয়, তাহলে হতো যুদ্ধ নিয়ে। অর্থাৎ যেসব সিনেমাগুলোতে মুসলিমদেরকে হয় শরণার্থী বা সন্ত্রাসী অথবা বিলাসী ও লম্পট শেখ হিসেবে দেখানো হতো।
১৯৯২-এর আলাদিনে দেখানো হয়েছিল খারাপ আরবরা দেখতে সুদর্শন নয় এবং তাদের উচ্চারণও খারাপ। আর ভালো আরব, অর্থাৎ আলাদিন এবং জেসমিনের উচ্চারণ হলো আমেরিকানদের মতো। তাদের চলাফেরা ইউরোপিয়ানদের মতো! এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সংস্কৃতি প্রকাশ পায়নি ছবিতে।
টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পরে হলিউডের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব আরও বেড়ে যায়। তবে অবাক বিষয় হলো, হলিউডের গতানুগতিক চিত্র কিছুটা পাল্টাতে শুরু করে। টিভি নাটক ‘হোমল্যান্ড’-এ দেখানো হয় ইরানীয়ান-আমেরিকান এক মুসলিম আমেরিকার জন্য জীবন দিয়ে দেয় অপর এক মুসলিম সন্ত্রাসীর হাতে। তবে এগুলো অল্প কিছু ব্যতিক্রম মাত্র।
২০০৪ সালে তৈরি হয় ‘হিডালগো’। এ ছবিতে দেখানো হয় এক আমেরিকান ঘোরা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আরবে যায়। সেখানে এক শেখ এর মেয়ের প্রেমে পরে তাকে হিংস্র চাচাতো ভাইয়ের থেকে রক্ষা করে। আবার ২০১৭ সালের সিনেমা ‘ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আবদুল’ এ দেখানো হয় রানী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে ভারতীয় মুসলমান ভৃত্য আবদুলের সখ্য। ছবিতে মুসলিম আবদুলকে একজন গুণী এবং ভাল মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
‘আলাদিন’ ছবিতে কানাডিয়ান অভিনেতা মিনা মাসুদ অভিনয় করেছেন আলাদিনের চরিত্রে। চরিত্রের সঙ্গে মানানসই করার জন্য তার গায়ের রঙ কিছুটা গাঢ় করা হয়েছে মেকআপ দিয়ে। অথচ এই চরিত্রে ডিজনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো অভিনেতাকেই নিতে পারতো। ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী নাওমি স্কট অভিনয় করেছেন জেসমিন চরিত্রে। এটাও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই আশা করেছিলেন এই চরিত্রে আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো অভিনেত্রীকে নেয়া হবে।
ছবিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে আরব এবং ভারতের সংস্কৃতিকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। বলিউডের নাচ, আরবের পাগড়ি এবং বেলি ড্যান্স, ইরান এবং আরবের উচ্চারণ, সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি।
তবে উইল স্মিথ, মিনা মাসুদ এবং নাওমি স্কট এর অনবদ্য অভিনয়ের কারণে সিনেমাটি শুধুই বিনোদন এর জন্য দেখলে ভালো লাগবে। তবে গতানুগতিক ধারার বাইরে যেতে পারেনি ছবিটি।








