দেশের ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে তারা আমানত সংগ্রহ করবে ৭ শতাংশ সুদে।
তবে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে সরকারি আমানত পাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঋণের সুদ হার কমানোর বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজী হাসানসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন, বিএলএফসিএর সভাপতি ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচলক মো. খলিলুর রহমান ও সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইপিডিসি ফাইনান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচলক মমিনুল ইসলাম বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার আলী খান।
মমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠকের জন্য আমরা নিজেরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এসেছি। বৈঠকে ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করবে। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দুই-এক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে উৎপাদনমুখী ও রপ্তানীমুখী শিল্প, এসএমই খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর নন-উৎপানশীল খাতে ঋণের সুদ হার এক অংকে আনতে একটু সময় লাগবে।
তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৭ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করবে বলে জানান বিএলএফসিএর নির্বাহী কমিটির এই সদস্য।
সুদ হার কমিয়ে আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন কম সুদে সরকারি আমানত পায় সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে রাষ্ট্রয়াত্ত আমানত পাবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে এই আমানত পাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকগুলোর মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক অংকে সুদহার নামিয়ে আনবে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। তারা বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে কথা দিয়েছে। এর মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার কমানো যায়; সেই ক্ষেত্রে তারা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এখনই কমিয়ে আনবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনবে।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সুদ হার ব্যাংকের তুলনায় বেশি হলেও তাদের ঋণ-আমানতের ব্যবধান (স্প্রেড) কম। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড ৪ এর বেশি হলেও তাদের আড়াই। এজন্য তাদের আমানতের সুদহার একটু বেশি হলেও ঋণের সুদ এক অংকে আনতে পারবে। তাই সরকারি ব্যাংকগুলোর বেসরকারি ব্যাংকে যেহেতু ৬ শতাংশ সুদে আমানত দিবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থ সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে চেয়েছে। আমরা তাদের বলেছি যেহেতু এটি সমন্বিত উদ্যোগ তাই সবার সহযোগিতায় এটি করা হবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাজী হাসান বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাংকের চেয়ে ভিন্ন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিকল্প উপায়ে অর্থ বা আমানত সংগ্রহের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারা যেহেতু দীর্ঘ মেয়ায়ী বিনিয়োগ করে। তাই দীর্ঘ মেয়াদী অর্থ আনতে হবে। এজন্য বন্ডের উপর জোর দেয়া হয়েছে।
তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, বন্ড আনতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে বলে জানান তিনি।
১ জুলাই থেকে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এবার একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও।







