মরক্কোর বিপক্ষে যোগ করা সময়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান মেদিনা। এসময় মরক্কোর সমর্থকরা মাঠে বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে খেলা দুঘণ্টা বন্ধ থাকে। আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটিও ভিএআর অফসাইডে বাতিল হয়। আলবিসেলেস্তেদের ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। অলিম্পিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পলসহ বিশ্বজয়ীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
প্যারিস অলিম্পিকে ছেলেদের ফুটবল ইভেন্টে বিতর্ক ছড়ানো ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শব্দের পোস্টে মেসি লিখেছেন, ‘অবিশ্বাস্য।’ দলের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে ডি পল লিখেছেন, ‘তোমাদের সাথে আগের চেয়েও বেশি পাশে আছি। তোমরা সবার বিপক্ষে ভালো করতে পারো।’
আলবিসেলেস্তেদের আরেক তারকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সার্কাস বাদ দিন। আমরা ম্যাচ স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে কথা বলছি নাকি মূর্খ হওয়া চালিয়ে যাচ্ছি? যদি এ ঘটনা অন্যভাবে ঘটতো, তবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না, তারা কী বলতো।’
অলিম্পিক ফুটবল দলের স্কোয়াডে থাকা নিকোলাস ওটামেন্ডি আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ছিলেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আপনাদের সমর্থন এবং বার্তার জন্য ধন্যবাদ। দেশে কিংবা বাইরের যেখানেই হোক আমরা প্রতিযোগিতায় আসি, যেমনটা সবসময় করে এসেছি। কিন্তু আজ যা ঘটেছে, তা আপনাকে রাগান্বিত করে তুলবে। অলিম্পিক গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। যেখানে একটি অলিম্পিক পদক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’
আগামী শনিবার লিওনে ইরাকের বিপক্ষে পরের ম্যাচে নামবে আর্জেন্টিনা। সেদিকে আপাতত দলের নজর, উল্লেখ করেছেন ওটামেন্ডি। লিখেছেন, ‘আমাদের শনিবারের দিকে নজর দিতে হবে এবং ভাবতে হবে। যেকোনো সময়ের চেয়ে সবাই বেশি ঐক্যবদ্ধ।’
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে জানিয়েছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
‘সেন্ট-এতিনেতে আমাদের আর্জেন্টাইন হিসেবে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা দুঃখজনক। লকার রুমে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে, শুধুমাত্র আমাদের খেলোয়াড়দের ওয়ার্মআপ করার জন্য ফিরে যেতে হল এবং একটি ম্যাচ খেলা চালিয়ে যেতে হল। মরক্কোর দর্শকদের মাঠে আক্রমণ এবং আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদের উপর সহিংসতার পর রেফারির ম্যাচ স্থগিত করা উচিত ছিল। সত্যিই তাদের বুদ্ধিহীনতা প্রতিযোগিতার নিয়মের বিরুদ্ধে যায়।’
‘তাছাড়া উভয় দলের অধিনায়কদের মতামত শোনা হয়নি। তারা বিশ্বাস করে, খেলা আবার শুরু করা উচিত ছিল না। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমরা ইতিমধ্যেই ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছি। যাতে ব্যবস্থা নেয়া যায় এবং দায়ীদের উপর একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।’








