সেদিন ২১ আগস্ট ২০০৪, শনিবার; ৭ ভাদ্র, ১৪১১, শরৎকাল। সময়ট পাঁচটা বিশ পার হয়েছে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হাজার মানুষের সমাবেশে নেতা কর্মী সাধারণ মানুষ এসেছেন সারাদেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ। নেত্রীর বক্তব্য শেষ হবার পরই শুরু হবে গণমিছিল।
কিন্তু মিছিল আর হলো না। আচমকা আকাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলো। শরতের বিকেল গ্রেনেড হামলায় প্রকম্পিত হয়ে গেল। শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার সাথে সাথেই দিনি যে ট্রাকটিতে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, সেটি লক্ষ্য করে শুরু হলো একের পর এক গ্রেনেড নিক্ষেপ। ত্রিমুখী হামলায় মোট ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
হামলায় চারদিকে ছোটাছুটি, প্রাণভয়ে মানুষজন দিগবিদিক দৌড়াচ্ছেন। গ্রেনেডের বিকট আওয়াজ আর বিস্ফোরণের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে আকাশ। আক্রান্ত মানুষের আর্তচিৎকার। থোকা থোকা রক্তস্নাত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ যেন মৃত্যুপুরী। মরণের নৃত্য যেন নেমেছিলো আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে। গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েও জাতীয় নেতৃবৃন্দ মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন।
কিন্তু ট্রাকের আশপাশে গ্রেনেডের হামলায় মুহূর্তেই আর্তনাদ করে লুটিয়ে পড়লেন আইভী রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। একের পর এক জীবিত মানুষ লুটিয়ে পড়লো মৃত্যুর কোলে। আহতদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস। গ্রেনেডের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে উড়ে যায় শরীরের টুকরা। নিহতদের অধিকাংশের শরীরের নানা অঙ্গ বিছিন্ন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানের একটি পা উড়ে যায়। সেদিনের সে বর্বরোচিত হামলায় শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীই নয়, ছয়জন সাংবাদিকও আহত হয়েছিলেন।
হামলার পর আহতরা যখন আর্তনাদ করছে সাহায্যের জন্য, তখন পুলিশ কোনো সাহায্য করেনি। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে মিছিল বের করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও আহতদের লাঠিচার্জ করে খুনীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। এই নিষ্ঠুর আক্রমণে শহীদ হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী। আহত হন অগণিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। আহতদের অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব হয়ে আজো মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এই হামলার কারণেই পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। এখনও দলের কয়েকজন সিনিয়ন নেতা দেহের ভিতর স্প্লিন্টার নিয়ে জীবন যাপন করছেন। পুরোপুরি চিকিৎসার মাধ্যমেও তাদের দেহ হতে সব স্প্লিন্টার অনেকের আজো বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আরেক ঘৃণ্য পাশবিকতার নজির এই গ্রেনেড হামলা।
মারাত্মক আহত অনেকেই পুলিশের কাঁদুনে গ্যাসের আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে, সময়মত হাসপাতালে যেতে না পেরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায়। আহতদের স্রোত এসে পড়তে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কেউ রিকশায়, কেউ ভ্যানগাড়িতে আবার কেউবা রক্তাক্ত শরীর নিয়ে পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌছান। কিন্তু তাদের জন্য ছিলো না কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা, ছিলো না ডাক্তার, হাসপাতালে আহতদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়নি। অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়। সরকার এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা করেনি।। সরকার নির্বিকার থেকে উদাসীনতার পরিচয় দেয়। চিকিৎসা না পেয়ে আহতরা অনেকেই অন্য হাসপাতালে চলে যায়।
নিশ্চিতভাবেই ২১ আগষ্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন জাতির পিতার কন্যা, গণমানুষের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সেদিনের বিরোধীদলীয় নেত্রী, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর উদ্দেশ্য ছিলো আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়া। এদেশে আওয়ামী লীগ যারা করেন তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী সমর্থকদের সবার এই একই পরিণতি হবে। তা হলো বিএনপি-জামাতের দ্বারা নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করা।
২১ আগস্ট একটার পর একটা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি। শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়, কয়েকটি গুলি শেখ হাসিনার গাড়িতে লাগে, গ্লাস ভেঙ্গে যায়। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল মাহবুব নিজের জীবনের বিনিময়ে তাকে রক্ষা করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করলেও সেদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি, সেই পরাজিত শক্তিই শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালায়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও ছিলো তার একটি।
শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীল জামাত-বিএনপি ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা করতে চায় এ দেশের গণতন্ত্রকে। মানুষের বিশ্বাস, গরীব-দুখী মানুষের প্রাণ শেখ হাসিনাকে তারা হত্যার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলো। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, স্বাধীন বাংলাদেশকে।
উল্লেখ্য যে গ্রেনেড হামলার সময় থেকেই সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ছিলো রহস্যজনক। সাধারণতঃ কোনো সমাবেশের সময় যে পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকে সে তুলনায় সমাবেশ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সমাবেশের আশ-পাশের উচুঁ ভবনগুলোতে বরাবরের মতো কোনো পুলিশ পাহারা ছিলেনা। আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকদেরকেও সেখানে যেতে বাধা দেয়া হয়েছিলো। এ কারণে হামলাকারীরা সহজে হামলা করে পালিয়ে যেতে পারে। পৈশাচিক এই হামলার পর সমস্ত আলামত ধ্বংস করার চেষ্টাও করে পুলিশ ও প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত দুটি গ্রেনেড আলামত হিসাবে রক্ষা না করে ধ্বংস করে দেয়া হয়। এতে ঘাতকদের হাতের ছাপ নষ্ট হয়ে যায়। হামলার আলামত নষ্টের জন্য ফায়ার বিগ্রেড এর হোস পাইপ দিয়ে রাতেই ঘটনাস্থল ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে ফেলা হয়।
এমন ভয়াবহ ঘটনায় বিরোধীদলীয় নেতাসহ ৫ জন এমপি আহত হলেও সরকারের কোনো মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নি এবং সরকারের কেউ যায় নি আহতদের দেখতে। বরং ঢাকা শহরে পুলিশ ও বিডিআর নামিয়ে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করা হয়। পরদিন সন্ধ্যার আগেই পোষ্টমর্টেম শেষ হলেও নিহতদের লাশ গভীর রাতের আগে স্বজনদের দেয়া হলো না। গায়েবানা জানাযার পর শোকমিছিলেও হামলা করলো পুলিশ এবং বিএনপির ক্যাডাররা। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।
গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতা বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত করে। তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “ওনাকে মারবে কে?” খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রীরা হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে সংসদে কথা বলেন। সংসদের হাউজ কমিটির সভায় আওয়ামী লীগের এমপিরা শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা গ্রহণ করা হয়নি। সংসদে কোনো আলোচনা করতে দেয়নি। খুনিদের মিশন শেষ করার সব ব্যবস্থা করে পরের দিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, We are looking for শক্রস্। সংসদে এও বলা হয় যে, শেখ হাসিনাই নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন সমাবেশস্থলে। কি নির্মম পরিহাস!!
২১ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে বারবার হামলা চালায় পুলিশ। সংসদ সদস্য ও নারীকর্মীদের উপর চলে আমানবিক নির্যাতন। হামলার সময় যেসব পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেছিলো তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। হামলার জন্য দায়ী ক্ষমতাবানদের রক্ষার জন্য নোয়াখালীর অজ পাড়াগাঁয়ের নিরীহ গরীব জজ মিয়াকে জড়িয়ে নাটক সাজানো হয়।
সত্য কখনো চাপা থাকে না। সেই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার জোট সরকার ধামাচাপা দিতে চাইলেও নিরপেক্ষ তদন্তের চার্জশিটে বেরিয়ে এসেছে মূল পরিকল্পনার কথা। বেরিয়ে এসেছে কারা সেই ভয়ংকর গ্রেনেড হামলা ও ২২ জন মানুষ হত্যার জন্য দায়ী। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ২০০৪ সালের ১৪ আগষ্ট হাওয়া ভবনে বসেই ২১ আগষ্টের হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয়। গ্রেনেড হামলার দুই-তিন দিন আগে তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় পরিকল্পনা-সভা করেছিলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি) নেতারা। পিন্টু ছাড়াও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এই হামলার মূল হোতা সেদিনের প্রধানমন্ত্রীর পুত্র, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বরপুত্র তারেক রহমান। হাওয়া ভবনে বসেই তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিস চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু, শাহ কায়কোবাদ, জামাত নেতা মুজাহিদ ও জঙ্গি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানরাই শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হামলার পরিকল্পনা করে।
১৯৭৫ এর পর সেনাশাসক জিয়া ও পরবর্তীতে খালেদা জিয়া যেভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা ও পুর্নবাসন করেছিলেন তেমনিভাবে বিএনপি-জামাত জোট চেষ্টা করেছে ২১ আগষ্টের খুনিদের রক্ষা করতে। হামলাকারীদের একজন মওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তান পাঠানো হয়। আবার চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ও সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমি গ্রেনেড হামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার আভাস দিয়ে সাক্ষী হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রুমি বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগে থেকেই সবকিছু জানেন বুঝতে পেরে আমি কথা না বাড়িয়ে সেদিন তার অফিস ত্যাগ করেছিলাম।’ জেনারেল রুমি উল্লেখ করেন, হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিরাপদে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা সঠিক কি-না তিনি তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বেগম জিয়া তাকে বলেন, ‘কোথা থেকে তুমি এই উদ্ভট তথ্য পেয়েছো?। তাজউদ্দিন পাকিস্তানে না কোথায় গেছে সে ব্যাপারে তোমার মাথাব্যথা কেন?’ (সূত্র: দৈনিক সমকাল ২৩.৮.২০১২)
গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলারই বিচার কাজ চলছে। মামলায় সাক্ষী ৪৯১ জন। গ্রেনেড হামলা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৫২ আসামীর মধ্যে ৩২ জন কারাগারে আছেন আর ১৯ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের অধিকাংশই বিদেশে অবস্থান করছেন। আমরা চাই পলাতক আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
১৫ আগস্টের মতো ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হওয়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার যে প্রত্যয়ে রয়েছে তাতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রকৃত অপরাধী এবং হুকুমের আসামিদের যথোপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জাতিকে আশান্বিত করবে। দেশবাসী আশ্বস্ত হবে এই ভেবে যে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, অপরাধী যতোই শক্তিশালী হোক বিচার তার হবেই।
ঘৃণ্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ১১ বছর পূর্তিতে নিহত ও আহতের প্রতি সমবেদনা জানাই। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কখনোই উগ্র ও জঙ্গিদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। কোনো অশুভ প্রেতাত্না বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করুক তা কারো কাম্য নয়। উগ্রতা এবং জঙ্গি অপতৎপরতাকে রুখতে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। সারা বিশ্ব আজ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, আমাদেরও এদের বিরুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। রাষ্ট্রীয় মদদে এদেশে যেন আর সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করা না হয়ে সেদিকেও সকলকে নজর রাখতে হবে।
চিলির নোবেল জয়ী বিখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার কবিতার ভাষায় বলতে চাই:
“নিজের সন্ত্রাস দিয়ে যে ওদের হত্যা করেছে
ওই রক্তরঞ্জিত হাতের বিচার খুবই দরকারি।”







