তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়রামের (৬৮) মৃত্যুশোক যেনো কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না রাজ্যবাসী। গত সোমবার (৫ ডিসেম্বর) তার মৃত্যুর পর থেকে শনিবার পর্যন্ত শোক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন কমপক্ষে ৩০০ মানুষ।
ক্ষমতাসীন দলটি শনিবার আত্মহত্যাকারীদের এ সংখ্যা জানায়। তবে একদিনের ব্যবধানেই সেই সংখ্যা দেড় শতাধিক বেড়েছে। রোববার এ সংখ্যা ৪৭০ বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানায় ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)।
রাজনীতিতে চার দশকের একক কর্তৃত্ব এবং পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সাবেক এই অভিনেত্রী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। যাকে ‘আম্মা’ বলে ডাকতো ভক্ত-সমর্থকরা।
অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) দলের মুখপাত্র চিন্নাকুটি পোন্নায়ান উত্তর প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও ভক্ত-সমর্থকদের আত্মহত্যার খবর জানিয়ে শনিবার বলেন, শোক সহ্য করতে না পেরে মানুষ আত্মহত্যা করছে। তারা বিষ খাচ্ছে, কারো কারো হার্ট অ্যাটাকের ঘটনাও ঘটছে। কেউ কেউ আবার কুয়ায় ঝাঁপিয়েও পড়ছেন। আমরা তাদের জন্য গভীর শোকে মুহ্যমান।
শনিবার তিনি বলেন, জয়ললিতার মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করা ২৮০টি পরিবারকে ৩ লাখ রুপির আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত তা ৩০০ ছাড়াতে বলেও তিনি জানান। তবে ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০০ তে (৪৭০) পৌঁছেছে। অর্থ সাহায্য ছাড়াও এই পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা এবং বিয়ের খরচের জন্য সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
আত্মহত্যার এই অস্বাভাবিক প্রবণতাকে পার্টি উৎসাহ দিচ্ছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। আত্মহত্যাকারীর পরিবারকে বিশাল ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে দলটি। দলীয় প্রধানের প্রতি গভীর ভক্তিতে কেউ আত্মহত্যা করছে বলে বিশ্বাস করলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
অনেক সময় হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলোকেও আনুগত্যের প্রমাণ বলে ধরা হচ্ছে। যা এক অস্বাভাবিক সংখ্যা সৃষ্টি করছে বলে দাবি সমালোচকদের।
তবে জয়ললিতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সহিংস রূপ দেখা গেছে আগেও। আনুগত্যের আনু্ষ্ঠানিক প্রদর্শনের জন্য পরিচিত তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের হাতের আঙ্গুল কেটে, দেহে জয়ললিতার ট্যাটু এঁকে, চুল ফেলে দিয়ে এমনটি দেখিয়ে আসছে বছরের পর বছর।
দুর্নীতির অভিযোগে জয়ললিতার কারাদণ্ডের পরতো কেউ কেউ নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো।
হাজার হাজার শোক প্রকাশকারীর মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে এখন রাজধানী শহর চেন্নাই। যেখানে মঙ্গলবার জয়ললিতার, তাদের আম্মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
সূত্র: পিটিআই, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস








