মুকুল থেকে গুটি হয়ে আম পূর্ণাঙ্গ আকার নিতে শুরু করলেই শুরু হয় রোগ-বালাই পোকামাকড়ের উপদ্রব। বাগানমালিক ও চাষীর দাবি আমকে পোকা ও ছত্রাকের হাত থেকে বাঁচাতে অনেক আগেই থেকেই প্রয়োগ করতে হয় নানা কীটনাশক ওষুধ।
চাষীরা জানান, আমে আগের থেকে ওষুধ ব্যবহারে আমের গায়ে কোনো অবাঞ্চিত দাগ থাকেনা। এমনকি বৃষ্টির পানিতেও কোন ক্ষতি হয় না। ক্রেতারাও ওষুধ ব্যবহার করা আমের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
চাষীদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরাও সক্রিয় ভাবে কৃষকদের উৎসাহিত করছে আমে বিষ প্রয়োগে। একজন চাষী বলেন, আমরা যে অফিস থেকে ওষুধ কিনি, কৃষি অফিসাররা ওই দোকানে বসে থাকেন। তারাই আমাদের বলে দেন কোন ওষুধটা প্রয়োগ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন চাষীরা বাগানে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে অতি উচ্চমাত্রায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্ব গবেষনা ইনিস্টিটিউডের প্রধান বিজ্ঞানী ড. শরফউদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালের দিকে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে চাষী কম মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন তিনি কমপক্ষে ১৫ বার এবং যিনি বেশি মাত্রায় তিনি ৬৩ বার পর্যন্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
মূলত ঝরে পড়া রোধে ওই সকল কীটনাশক ব্যবহার করেন কৃষক। এ থেকে উত্তরণের জন্য কৃষি অধিদপ্তর শুরু করেছেন ব্যাগিং পদ্ধতি। আমের বয়স ২৫ দিন হলে ব্যাগ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয় আমকে। ওই পদ্ধতিতে তিনটি স্প্রের বেশি প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু সব আমকে ব্যাগিংয়ের আওতায় আনা আদৌ সম্ভব কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।






