কাজের চাপ প্রচণ্ড। কারণ বাজারে পণ্যের চাহিদা বেশি। তড়িঘড়ি করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, কারখানার কর্মীরা বাথরুমে পর্যন্ত যেতে পারেন না। তাই দিনের পর দিন ডায়পার পরেই কাজ করতে হচ্ছে তাদের!
অবিশ্বাস্য হলেও এটি এখন নিত্যদিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের পোলট্রি শিল্পে। ভয়াবহ তথ্যটি উঠে এসেছে মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘অক্সফ্যাম-আমেরিকা’র করা একটি সমীক্ষায়। সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল কয়েকটি খ্যাতনামা পোলট্রি সংস্থার কর্মীদের ওপর। তার মধ্যে রয়েছে ‘টাইসন ফুড্স’‚ ‘পিলগ্রিমস’, ‘পার্দ্যু’-র মতো সংস্থাগুলো।
২৬৬ জন কর্মীর ওপর চালানো ওই সমীক্ষার ৮০ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, টয়লেটে যাওয়ার জন্য ‘ডিউটি আওয়ার্স’-এ কোনো বিরতি দেয়া হয় না। টয়লেটে যেতে হলে আগে লাইন সুপারভাইজারকে জানাতে হয়। লাইন সুপারভাইজার তখন সেই কর্মী টয়লেটে থাকাকালীন তার পরিবর্তে কাজ করবে এমন আরেকজনকে খুঁজে বের করেন। এভাবে ‘বিকল্প’ কর্মী খুঁজতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই এক ঘণ্টার বেশি পার হয়ে যায়। তাই ডায়াপার পরেই কাজ করতে হয় পোলট্রি শ্রমিকদের।
টয়লেটে যেন যাওয়া না লাগে সেজন্য সারাদিন পানি না খেয়ে কাটান বলে জানান অনেকে। ফলে পানিশূন্যতা জনিত সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের।
আরকানসাসের একটি পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ডলোরিস জানান, বহুবার তার সুপারভাইজার বাথরুমে যেতে দেয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ডলোরিসসহ অন্য কর্মীদেরও তার উপহাস শুনতে হয়েছে – ‘কেনো? বলেছিলাম না এত পানি আর এত বেশি খাবার খেয়ো না? তাহলেই তো আর বাথরুমে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইতে হয় না!’
এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই ডায়পারের শরণাপন্ন হয়েছেন ডলোরিস ও অন্যরা। নিজেকে মূল্যহীন মনে হয় বলে জানান ডলোরিস, ‘মনে হয় যেন আমার কথা বলারও কোনো অধিকার নেই। ভীষণ লজ্জিত অনুভব করি।’ একই পরিস্থিতি বাকি সবারও।
পরিসংখ্যান বলছে‚ যুক্তরাষ্ট্রের একেকটি পোলট্রি ফার্মে সারা দিনে গড়ে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার পাখি ‘প্রসেস’ করা হয়। চলন্ত কনভেয়ার বেল্টে স্তূপ করা মুরগি। ছুরি, কাঁচি নিয়ে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে শ্রমিকেরা। মেরে, কেটে, ছাল ছাড়িয়ে, পরিষ্কার মাংস বার করে প্যাকেটবন্দি হচ্ছে মুরগিগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পোলট্রি শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিটা এখন এমনই। কাজের গতি: মিনিটে ১৪০ টি মুরগি। বোঝাই যাচ্ছে, কাজের চাপ কতটা সাংঘাতিক!
সারা বিশ্বে মানবাধিকার আর শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিয়ে জোর গলায় কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রেই শ্রম আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এভাবে কাজ করানো হচ্ছে এই খাদ্যশ্রমিকদের।
তবে পোলট্রি সংস্থাগুলি অবশ্য এই ডায়াপার পরে কাজ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।










