শিক্ষক শ্যামল কান্তির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি দাবি করেন, ধর্ম অবমাননার অপরাধে ওই শিক্ষকের শাস্তি ছিলো সামাজিক বিচার। তার অভিযোগ, ঘটনার পরপরই প্রধান শিক্ষক তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। এই ঘটনায় তিনি রাজনীতির শিকার বলেও দাবি করেন সেলিম ওসমান। তার দাবি,” যে মাস্টারের জন্য এতো দরদী হওয়া হচ্ছে সে মাস্টার নিজেই তার দোষ স্বীকার করেছিলেন”।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দায়ী করলেও ওই ঘটনায় তিনি ‘দুঃখিত এবং লজ্জিত’ বলে জানিয়েছেন সেলিম ওসমান। শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালেও কোনো আপত্তি নেই তার। তবে তার দাবি ওই ঘটনায় হাজার-হাজার মানুষের সাক্ষ্য তার পক্ষে যাবে এমনকি শিশুরাও তার পক্ষেই কথা বলবে।
মত বিনিময় সভায় শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগের বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন সেলিম ওসমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে সাংবাদিক সম্মেলন করতে নিষেধ করেছেন।
শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানোর পেছনে পঞ্চায়েত, সামাজিক বিচারের উদাহরণ টেনে সাংসদ সেলিম ওসমান শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদের সোচ্চার হওয়াদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন,”স্থানীয় সরকার বলে এখনো একটি কথা আছে। একজন সংসদ সদস্য এলাকার মানুষের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ওই আসামীর সম্মতির ভিত্তিতে যদি তাকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয় আর সেটার জন্য যদি এতো অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন আসে আর কি কেউ কখনো সাহস করবেন কোনো সমস্যার সমাধান করার”।
সেলিম ওসমান বলেন, দলের চেয়ারম্যান তাকে সংবাদ সম্মেলন করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং আল্লাহ ও জাতীয় পার্টি আমার সঙ্গে আছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
“আমি কোনো ফাউ এমপি না ” বলে সেলিম ওসমান ওইদিনের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটির সমালোচনা করে ছাত্রকে মারধোর করার অভিযোগের তদন্ত কোথায় জানতে চান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের জুমার নামাজের পর কোনো ধরনের সমাবেশ না করার আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য।








