ইতিহাসের সেরার তালিকায় জায়গা পাবেন কিনা এমন প্রশ্নে চায়ের টেবিলে তর্কে-বিতর্কের অন্যতম অনুষঙ্গ তিনি। লিওনেল মেসি ভুবন ভোলানো, জাদুকরী ফুটবলে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে মাতিয়ে রেখেছেন। আর্জেন্টাইন জাদুকরের ফুটবলশিল্পে কী খুঁত থাকতে পারে? মেসি নিজেই জানাচ্ছেন, তিনি নিখুঁত নন। ছয় মাস বাদে আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ যখন দুয়ারে, সাফল্য সন্ধানী মেসি সেই খুঁত আর দুর্বলতার জায়গা নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছেন।
গত বছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছায়ায় ঢাকা পড়লেও চলতি মৌসুমে আবারও স্বরূপে আলোকিত মেসি। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ২৫ ম্যাচে ১৯টি গোল আছে পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকার। চলতি মৌসুমের অর্ধেকটা যে গতিতে ছুটেছেন, বাকিটা সেই গতিতে চলতে পারলেই পরিষ্কার হবে ষষ্ঠবারের মত ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ।
শুধু নিজে জিতলেই হবে না, মেটাতে হবে দেশ ও ভক্তদের হাহাকারও। সেটা সম্ভব কেবল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারলে। সার্বিয়ান সংবাদমাধ্যম ব্লিচকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেসি জানাচ্ছেন, নিজের দুর্বলতার জায়গা সম্পর্কে ভালই ওয়াকিবহাল তিনি। যার একটি হল পেনাল্টি। তাই রাশিয়া বিশ্বকাপকে লক্ষ্যে রেখে পেনাল্টি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করবেন মেসি।
‘আমি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করছি। এখনও অনেক সমস্যা আছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় হতে হলে আমাকে সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। সেটা পেনাল্টি। আমাকে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে।’
ব্লিচের সঙ্গে একান্ত আলাপচারীতায় নিজের পরিবার, অবসর পরবর্তী জীবন নিয়েও কথা বলেছেন মেসি। জানিয়েছেন খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হওয়ার কোন বাসনা নেই, ‘আমি সম্ভবত অবসরের পর কোচ হবো না। কিন্তু এখনও লম্বা একটা সময় পরে আছে। কে জানে হয়ত আমি মত পরিবর্তনও করতে পারি।’
বিশ্বসেরা হওয়ায় বিড়ম্বনার খ্যাতিও পোহাতে হয় বলে ব্লিচকে জানিয়েছেন মেসি। নিজের নামের পাশে প্রায় সব ট্রফি থাকলেও এখনো দুই ছেলে থিয়াগো এবং মাত্তেওর যোগ্য বাবা হয়ে উঠতে পারেননি বলে আক্ষেপ তার।
‘আমি পরিবার নিয়ে খুব সাধারণ একটা জীবনে অভ্যস্ত। মাঝে মধ্যে খুব ইচ্ছে হয় ভক্তদের ভিড় এড়িয়ে যদি রাস্তায় পরিবারকে নিয়ে হাঁটতে পারতাম! একজন অভিভাবক হিসেবে এ ভয়ঙ্কর অনুভূতি। একজন বাবা হতে পারাটা আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।’







