জার্মানির মিউনিখে নয়জনকে হত্যাকারী তরুণ আলী সমবলি (১৮) প্রায়শই সহপাঠীদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে একদিন বলেছিলেন, “আমি তোমাদের সবাইকে হত্যা করবো।”
১৩ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সেদিনের আক্রান্তদের ৭ জনই ‘টিনএজার’।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ম্যাকডোনাল্ডের একটি শাখায় মাত্রই খেতে বসা শিশু-কিশোরদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল সে।
কল অব ডিউটির মতো শুটিং গেমসের প্রতি আসক্ত আলীর সাবেক একজন সহপাঠী একটি চ্যাটরুম ওয়েবসাইটে লিখেন, “আমি তাকে চিনি। তার নাম আলী সমবলি। আমরা সবসময় তাকে উত্ত্যক্ত করতাম এবং সে সবসময়ই বলতো আমাদের মেরে ফেলবে।”
একই স্কুলে পড়া অপর একজন তাকে বন্ধুহীন, ‘আসলেই অজনপ্রিয়’ বলে উল্লেখ করেন।
সে সব সময় শুটিং গেমস খেলতো বলে সমবলির ভাইয়ের ১৪ বছর বয়সী এক বন্ধু মেইল অনলাইনকে জানায়। “সে এটাতে আসক্ত ছিল। এই খেলাগুলোতে সেরা হতে চাইতো সে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে কল অব ডিউটি গেমসটি খেলতো।”
আলীর প্রতিবেশী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী দ্য ডেইলি মেইলকে বলেন, “সে স্কুলে জনপ্রিয় ছিল না। তার মাত্র দুই বা তিনজন বন্ধু ছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কয়েকমাস আগে বাদানুবাদে জড়িয়ে আলী বলেছিল সে একটি হত্যাযজ্ঞ চালাতে চায়।”
সে বলেছিল, “ আমি তোমাদের সবাইকে হত্যা করবো।
আলী মানসিক ভাবে অসুস্থ এবং এজন্য চিকিৎসা নিয়েছিলো বলে জানান প্রসিকিউটর।
শুক্রবারের সেই হত্যাকাণ্ডের সময়কার একটি ভিডিওতে বন্দুক হাতে একজনকে দেখা যায়, যাকে সমবলি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার পরেই ভিডিওটি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ব্যালকনিতে দাঁড়ানো অপর একজনের সাথে সে কথা বলছিল।
এই হত্যার আগে কয়েক বছর ধরে নির্যাতিত হয়েছিল বলে ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়।
“তোমাদের জন্য আমি সাত বছর নিপীড়নের শিকার হয়েছি… এবং এখন তোমাদের গুলি করার জন্য আমাকে একটি বন্দুক কিনতে হয়েছে।”
এর জবাবে ব্যালকনিতে দাঁড়ানো ব্যক্তিটি তাকে বিদেশী বলে গাল দিলে সে জবাব দেয়, “আমি জার্মান। এখানেই আমি জন্মেছি।”
নরওয়েতে ২০১১ সালের ২২ জুলাই ৭৭ জনকে হত্যা করা অ্যানড্রেস ব্রেইভিকের প্রতি সমবলির সমর্থন রয়েছে বলে জানান মিউনিখের পুলিশ প্রধান হার্বার্টাস অ্যান্ড্রে।
সেই হত্যাযজ্ঞের পঞ্চম বছর পূর্তিতে সে মিউনিখে হত্যাকাণ্ড চালায়। জার্মান পত্রিকা বিল্ড জানায়, সমবলি তার হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল পিকচারে অসলোর সেই খুনীর ছবি ব্যবহার করতো।
জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম শহর মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং মলে হামলা চালিয়ে বন্দুকধারীসহ ১০ জন নিহত হয়। হামলার পর আত্মহত্যা করে হামলাকারী।
তিনি ইরানি বংশোদ্ভুত ১৮ বছরের জার্মান নাগরিক ও মিউনিখের স্থায়ী বাসিন্দা।










