আমি অত বড়মাপের তারকা নই: সাইমন

Man standing outdoors in a garden with lush green plants, potted trees, and blooming flowers, smiling at the camera. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
নিজেকে কখনই বড়মাপের স্টার মনে করেন না ‘পোড়ামন’ খ্যাত নায়ক সাইমন সাদিক। পর্দায় নায়ক হিসেবে ধরা দিলেও ‘বিহাইন্ড দ্য ক্যামেরা’য় তিনি অতি সাধারণ এক ব্যক্তিত্ব। তার আন্তরিকতা, বন্ধুসুলভ মিশুক আচরণ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে মুগ্ধ করে।
অভিনয়ের পাশাপাশি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নেতৃত্বে এবার ‘সহ-সাধারণ সম্পাদক’ পদে নির্বাচিত সাইমন সাদিক। নির্বাচনে ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন প্যানেলের ফ্রন্টলাইনে থাকলেও সাইমন সবসময় শিল্পী হিসেবে তার কাজকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
এ নায়কের হাফ ডজনের মতো ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে সাইমন সাদিক বলেন, ‘চলচ্চিত্র আমাকে শিল্পী বানিয়েছে। তাই আমি সবসময় শুটিংকে প্রাধান্য দিয়েছি। কাজ না করলে দিনশেষে ইন্ডাস্ট্রিতে সবকিছু মূল্যহীন। সংগঠন আমার কাছে অপশনাল। এখানে আছি শিল্পীদের স্বার্থে।’
তার কথা, ‘চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি মানুষ আমার আপন, আরেকটি পরিবার। এখনকার মানুষ আমাকে ভীষণ স্নেহ করেন। সুখেদুঃখে সবার আগে তাদের পাশে পাই। তাদের পাশে থাকার জন্য এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এটি আমার দায়বদ্ধতা।’

সাইমন সাদিক মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, কাজ ছাড়া চলচ্চিত্রে কোন শিল্পীর অস্তিত্ব নেই। তাই কাজের কোনো বিকল্প নেই।
কদিন আগে ‘মায়া’র শুটিং করলেন সাইমন সাদিক। ১৭ মার্চ থেকে শুরু করবেন আরেক নতুন ছবি ‘হাহাকার’। শুটিংয়ে আছে সাইমনের ‘আমার মা আমার বেহেশত, ‘জলরঙ’। মুক্তির প্রহর গুনছে ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘নরসুন্দরী’, ‘লাইভ’, ‘নদীর বুকে চাঁদ’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘বাহাদুরী’, ‘দ্বায়মুক্তি’।
সাইমনের এসব ছবিগুলো পরিচালনা করেন শাহীন সুমন, বদিউল আলম খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, শামীম আহমেদ রনি, অপূর্ব রানা, শওকত হোসেন, শফিক হাসান। নায়িকা হিসেবে আছেন মাহিয়া মাহি, পরীমনি, বুবলীরা।
সাইমন বলেন, ‘করোনার কারণে এতদিন ছবিগুলো মুক্তি পায়নি। করোনার পর কিছু ভালো ছবির আওয়াজ থাকলেও ব্যবসায়িকভাবে আলোর মুখ দেখেনি। আমার প্রযোজকরাও এসবের মধ্যে ছবি মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি মনে করি, চাইলেই মুক্তি দেয়া যায়; তবে প্রযোজকের লগ্নি উঠে আসা অনেক বড় ব্যাপার। তাই আরও সময় নিতে বলেছি।’

সাইমনের কাছে তার মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলো হলে দর্শক ফেরানোর উপযোগী কিনা জানতে চাইলে বলেন, ”আমার ছবি মুক্তি পেলে সিনেমা হলে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বে এটা বিশ্বাস করি না। আমি ওতো বড়মাপের তারকাও নই। বিনয়ের সঙ্গে এটা জানাচ্ছি। বিশ্বাস করি, বিনয় কখনও মানুষকে নত করে না। আমার মধ্যে কোন অহংকার নেই। এটা যারা আমাকে কাছ থেকে চেনেন, তার জানেন। আমার নামের উপর ছবি চলে বিষয়টা মোটেও এমন না। অনেকের ছবি মুক্তি পেলেও কারও নাম বা তারকা খ্যাতির কারণে ছবি চলেনি।”
সাইমন সাদিক বলেন, ”সবসময় স্বীকার করি, শুধুমাত্র আমাদের শাকিব ভাইয়ের (শাকিব খান) ক্ষেত্রে এটা হয়। তার নামের উপর ছবি চলে। তার সিনেমা মুক্তি পেয়ে দর্শক সিনেমা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এটাই চরম বাস্তবতা। ওনার বড় সংখ্যক ফিক্সড দর্শক আছেন, যারা তার ছবির জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে। তাই তার ছবি মুক্তি পেলে হলে হলে ভিড় দেখা যায়।”
সাইমন সাদিক বলেন, হয়তো কিছু দর্শক আমাকে পছন্দ করেন। নইলে তো গত ১০ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারতাম না। চেষ্টা করছি, ভালো ছবি করার। ভালো ছবির বিকল্প নেই। ছবির মুক্তিতে প্রচারণাও বড় ফ্যাক্ট। ছবির কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে যাবে এমন ছবি দরকার। ‘মাউথ পাবলিসিটি’র মাধ্যমে দর্শকের ছবি দেখার প্রতি আগ্রহী করতে হবে।






