গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার তেজগাঁও থানার মনিপুড়ি পাড়ায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মরহুম আশরাফ আলী খান এবং মরহুমা আকরামুন নেসার দ্বিতীয় সন্তান। ১৯৬৫ সালে তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুল হতে এসএসসি ও ১৯৬৭ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি অনার্স সম্পন্ন করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগরে উত্তর আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২নং সেক্টর এর ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী এর অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং প্রেস কাউন্সিলেরও একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দোহার পদ্মা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান খান কামাল। ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি, তেজগাঁও কলেজের প্রেসিডেন্ট এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনেট সদস্য। তিনি তেজগাঁও, রমনা ও দোহার এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ অনেক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। তিনি জানুয়ারি ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১২ জানুয়ারি ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দক্ষতা যোগ্যতা এবং দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যথারীতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি বই পড়া, পত্রিকা পড়া এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। তার সহধর্মীনি মিসেস লুৎফুল তাহমিনা খান। তিনি এক পুত্র এক কন্যা সন্তানের জনক।
প্রশ্ন: নির্বাচনকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি। আপনার চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বড় এখানে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে নির্বাচনের জন্যে ইসি’র সাথে কী কী সমন্বয় করছেন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। সিডিউল ঘোষণার পরে সব ক্ষমতা কমিশনের হাতে চলে গেছে। ইসি এখন আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। আমাদের যা কিছু প্রয়োজন সেই তথ্যও ইসির কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি এবং এর অনুমতি নিয়ে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। এক কথায় বলতে পারি- সবকিছুই নির্বাচন কমিশন মনিটর করছে, দেখছে এবং তার নির্দেশে এখন নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী দক্ষ। পেশাদারিত্বের দিক দিয়ে তারা এখন এমন একটা পর্যায়ে এসেছে-যে কোন চ্যালেঞ্জ তারা মোকাবিলা করতে পারে। তাই নিরপত্তা বাহিনীর উপরে আমার বিশ্বাস আছে। তারা এই নির্বাচন কমিশনের আওতায় সবকিছু সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
প্রশ্ন: নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী থাকবে?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: শুধু মনিটরিং করা ছাড়া এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আর কোন কাজ নেই। আমাদের পুলিশ অফিসাররা অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। কাজেই কোন ধরণের সমস্যা হওয়ার কোন কারণ নেই। নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টির যে কাজ তা কিন্তু ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। একেকজন প্রার্থী যখন মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছেন তখন হাজার হাজার ফলোয়ার তার সাথে যাচ্ছেন। গ্রাম-গঞ্জের দোকানগুলো গরম চায়ের পেয়ালায় ধূমায়িত হচ্ছে। এই যে উৎসবমুখর পরিবেশ শুরু হয়ে গেছে, চলবে এবং আরও সুন্দর হবে। এই কয়েকদিন দিন বাংলাদেশের মানুষ উৎসবের আমেজে থাকবেন।
প্রশ্ন: কিন্তু বিরোধী পক্ষ বলছে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেই। পেছন থেকে এই সরকারই তাদের পরিচালিত করছে। এই অভিযোগের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: বিরোধীদল আমি বলবো না। কারণ তারা গত সংসদে ছিল না। তবে আমি বলবো একটি বড় রাজনৈতিক দল। সেই রাজনৈতিক দলের এটি একটি রণ কৌশল। এই কৌশল অবলম্বন করে তারা সব সময়ই এই সব কথা বলবে। এটি আমরা অতীতেও দেখেছি এখনও বলছেন। আমি মনে করি এটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল। এই কৌশলে তারা ধুম্রজাল তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং আমি মনে নির্বাচন কমিশন যখন যেটি প্রয়োজন আমলে নিচ্ছেন এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সেই মোতাবেক কাজ করছে। কাজেই এখানে একপেশে বা সরকার নিয়ন্ত্রিত এমনটা বলার কোন সুযোগ নেই।
প্রশ্ন: নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে সরকার কোন ভূমিকায় থাকবে- জনগণকে কিভাবে আশ্বস্ত করবেন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: নির্বাচন কমিশন এখানে মুখ্য। তারা যেই ধরণের নির্দেশনা দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী কিন্তু সেইগুলো একে একে অনুসরণ করে যাচ্ছে। ৬ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনের মাঠে থাকবে। পুলিশ জায়গামতো আছে। বিজিবি যাবে। আনসারও রয়েছে। কোস্ট গার্ড সব মিলিয়ে ৬ লাখ। নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীকেও দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও নির্বাচনের মাঠে থাকবে। যাতে করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়। নির্বাচন কমিশন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তারা অবশ্যই সফল হবে।
প্রশ্ন: পুলিশ বাহিনী দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে নানা পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে। এই কারণেই কি রাজনৈতিক দলগুলো সেনা মোতায়নের দাবি তোলে?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: এটি হতে পারে। দাবি তুললে তা কনসিডার কিন্তু করছে ইসি। যখন ইলেকশন হয় তখন পরিকল্পনার ছক থাকে- কে কী দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজ একটার পর একটা হচ্ছে এবং চলবে।
প্রশ্ন: পুলিশ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের কোন অভিযোগ যাতে না ওঠে- সেই জন্যে আপনারা কী করছেন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: যেটাই প্রশ্ন আসছে- নির্বাচন কমিশন মনে করছে চেঞ্জ করার দরকার- সাথে সাথে কিন্তু তার পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বিগত নির্বাচনগুলোতেও তারা যারা বলেছে সাথে সাথে তাই হয়ে গিয়েছে। এখন এই নির্বাচন শুরু তো হচ্ছে- নির্বাচন কমিশন যেভাবে বলবেন নিরাপত্তা বাহিনী সেইভাবেই কাজ করবে। আপনারা তা দেখবেন। তারা তৈরি হয়ে আছে। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠছে তার বদলে কে যাবেন, আবার তার পরে কে যাবেন- এইভাবে সবকিছু তৈরি হয়ে আছে। নির্বাচনে সহিংসতা ও অরাজকতা হওয়ার কোন আশংকা নেই। দশ বছর আগের পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর চেয়ে এখনকার বাহিনী অনেক অভিজ্ঞ। তাদের পেশাদারিত্ব আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কোন প্রকার বিশৃংখলার আশংকা নেই।
প্রশ্ন: তার মানে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি এবং আমি মনে করি তারা নিরপেক্ষ থাকবে এবং একটি সুন্দর দেশ তারা উপহার দেবে দেশকে।
প্রশ্ন: গতবারের তুলনায় এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বেশি অনেক। আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: আমাদেরকে ভোট দেওয়ার জন্যে জনগণ উন্মুখ হয়ে আছেন। জনগণের প্রতি আস্থা আমাদের আছে যে, তারা আবারো আমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। শেখ হাসিনা আবারো প্রধানমন্ত্রী হবেন। কারণ এই দশ বছরে জনগণ অনেক কিছু টের পেয়েছেন যে, কাকে ভোট দিলে দেশ এগিয়ে যাবে? কাকে দিয়ে দেশের মঙ্গল হবে? আমাদের জনগণ এখন অনেক অভিজ্ঞ। সবকিছুই মানুষের হাতের মুঠোয়। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবেন এবং যথার্থই আজকে বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হয়ে গিয়েছে। আপনি সেই চরকুকরি মুকরিতে যান কিংবা তেতুলিয়ার কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানেই যান দেখবেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কাজেই এক সেকেন্ডে ফেসবুকের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা সব খবর পেয়ে যাচ্ছে। তাই ধুম্রজাল সৃষ্টি করার কোন অবকাশ নাই। জনগণ তৈরি হয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য এবং তারা ভুল করবে না।
প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী আসনে ৬ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: যে কয়জনই দাঁড়াক তা নিয়ে আমি চিন্তা করি না। আমি মনে করি আরও যদি দাঁড়াত তাহলে আমার জন্য ভাল হতো। ২০০৮ এ আমি যখন নির্বাচন করি তখনও পাঁচজন ছিল। এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী যে ভোট পেয়েছিল আমার বিপক্ষে সেই হিসাব আমি এখানে দিতে চাই না। আর বিএনপির প্রার্থী বাদে বাকী কয়জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যার ইচ্ছা হবে দাঁড়াবে। এবার আটজন হয়েছে। আমরা জনগণের সাথে আছি তাই আমাদের কোন ভয় নেই। জনগণ থেকে যারা বিচ্ছিন্ন। বেশি প্রার্থী হলে তারা ভীত হবে।
প্রশ্ন: শেষ পর্যন্ত যে আটজন তারা টিকে থাকবে তো?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: এটা তাদের ব্যাপার কিংবা কোন দল থেকে যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন সেই দল সিদ্ধান্ত দেবেন কাকে প্রার্থী করবেন?
প্রশ্ন: ৪০ হাজার ২০০ ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবে পুলিশ বাহিনী। সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে পুলিশ বাহিনীর আসলে কি কিছু করবার থাকে?
আসাদুজ্জামান খান কামাল: পুলিশ কাউকে ভোটটা কোন নির্দিষ্ট জায়গায় দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে না। এখানে অনেক এজেন্সি কাজ করে। পোলিং এজেন্ট থাকে, দলীয় নেতাকর্মীরা থাকে, পোলিং অফিসার থাকে- এই সব পার হয়ে জোর করে ভোট দেওয়ার ক্যাপাসিটি পুলিশের নেই। জনগণরাই কখনো কখনো উত্তেজিত হয়ে জোর করে ভোট কেন্দ্র দখল করতে চায়। তখন পুলিশ তাদের কাজ করে থাকে। এই সমস্ত ঘটনা অতীতেও হয়েছে তাই আমরা মনে করি মানুষ যতোই নির্বাচনের ব্যাপারে সিরিয়াস হবে ততই এই সব মারামারি হানাহানি কমে যাবে। এবার এই সব আরও কম হবে।









