কোটা বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার ২৮ দিন পরও তা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না করায় আবারো রাজপথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোটা সংস্কার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে রোববার থেকে রাজপথে নামবেন তারা।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা মেনে নিয়ে আমরা ৭ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি।
‘যদি আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ না হয়, তাহলে রোববার থেকে সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, বাংলার ছাত্রসমাজের সঙ্গে নাটক চলছে। ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলার ছাত্রসমাজ তা মেনে নিবে না। ন্যায্য অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজ যে একত্রিত তা আবারো দেখিয়ে দিবে।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যদি তাদের কাউকে কোনো ধরণের হয়রানি বা নিপীড়ন করা হয় তাহলে বাংলার ছাত্রসমাজ একত্রিত হয়ে এর দাঁতভাঙা জবাব দিবে।
বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জমায়েত হতে থাকে। বেলা ১১টার দিকে তারা একটি মিছিল বের করে।
মিছিলে তারা ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দ্রুত চাই প্রজ্ঞাপন’, ‘পাঞ্জেরি গো পাঞ্জেরি, কবে হবে প্রজ্ঞাপন?’ ‘মাদার অব এডুকেশন, রিমোভ দ্য ডিসক্রিমিনেশন’ এসব স্লোগান দিতে থাকে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে চারুকলা কলা অনুষদ হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল বলেন, কোটা সংস্কারের গেজেট নিয়ে টালবাহানা চলছে। আমরা ছাত্রসমাজ দ্রুততম সময়ে কোটা বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে মানবন্ধন শুরু করেছি। এ মানববন্ধন শুধু জাহাঙ্গীরনগরে নয়, সারাদেশে একযোগে চলছে। যতদিন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন না আসে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।
কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে গতমাসে। সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।
দ্রুত কোটা সংস্কার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা।
কোটা পদ্ধতি বাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি অস্থা রেখে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু ঘোষণার একমাস পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোন প্রজ্ঞাপন জারি করেননি। কথা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি এমন কেন করছেন তাই আমরা বুঝতে পারছি না।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে কোটা ব্যবস্থা রয়েছে তা চরম বৈষম্যপূর্ণ। একজন কোটাবিহীন ব্যক্তির চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য হয়েও অনেক কোটাধারী বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এভাবে চললে দেশ একসময় প্রকৃত মেধাবী সংকটে পড়বে। এতে মেধাবীদের মূল্যায়নের কোন সুযোগ থাকবে না। জাতি তার প্রকৃত মেধা হারিয়ে ফেলবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন রাবি শাখার আহ্বায়ক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ মোন্নাফের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন সায়েম প্রমুখ।








