১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। কে হবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। সকলের মনে প্রশ্ন, দ্বিতীয় মেয়াদে কি আবারও দেখা যাবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে, না নতুন কেউ আসবেন?
সংবিধান মতে সাংসদদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। আর সংসদে রয়েছে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাই দলটি যাকেই মনোনিত করবে তিনিই হবেন রাষ্ট্রপতি।
এখন পর্যন্ত একাধিক রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির নাম এসেছে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায়। আলোচিত হয়ে আসা নাম গুলোর মধ্যে রয়েছেন: আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ,পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সদ্য সাবেক ভিসি(ঢাবি) আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা।
আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে: বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম পছন্দ। একাধিক দলীয় ফোরামে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতির প্রশংসাও করেছেন। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা সাপেক্ষে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। এখানে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সকলের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হবে সেটা নিয়ে এখনও আমাদের নীতি-নির্ধারণী বোর্ড বসেনি। আলোচনাও হয়নি। খুব দ্রুতই আমরা বসবো। সেখানে নেত্রী তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর আগে বলা যাবে না আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, রাজনীতি থেকে আসা এমন একজনকেই আগামী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। তা বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও হতে পারেন।
কারণ হিসেবে তারা বলছেন: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না দলটি। এ বিষয়ে, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন এক-এগারোর ঘটনার উদাহরণ দেন তারা।
আবদুল হামিদের সাফল্যও কম নয়। এক কথায় বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে দেশের গণমানুষের কাছে তিনি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাই তেমন কোন সমস্যা না হলে আগামীতেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা যাবে তাকে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এই নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করলে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।







