আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় এ পর্যন্ত ৬৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৮২ জন।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে শহর-ই-দুবাই ওয়েডিং হলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য অনুসারে পুলিশের ধারণা, শিয়া হাজারা জনগোষ্ঠীর ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে হওয়া বোমা হামলাটি আত্মঘাতী হামলা ছিল।
বিস্ফোরণের পর হতাহত অনেক মানুষের দেহ মেঝেতে পড়ে ছিল বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হতাহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আহত কমপক্ষে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও বিস্ফোরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হামলায় দায় এখনো কেউ স্বীকার না করলেও সম্প্রতি তালেবান এবং আইএসের স্থানীয় শাখা কাবুলে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহিমি।
তবে তালেবান এ হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। বরং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে ক্ষুদেবার্তায় পাঠানো এক বিবৃতিতে হামলাটির ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে এমন উদ্দেশ্যমূলক এবং বর্বর হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’
বিস্ফোরণের সময় হলটিতে এক হাজারেরও বেশি অতিথি ছিলেন। আফগান বিয়েগুলোতে সাধারণত পুরুষদের জন্য আলাদা এবং নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। বিস্ফোরণটি ঘটে পুরুষদের অংশে। তবে সেখানে বিস্ফোরণের সময় অনেক নারী ও শিশুও উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ ফারহাগ নামে বিয়ের একজন অতিথি জানান, ঘটনার সময় তিনি মেয়েদের অংশে ছিলেন। হঠাৎই বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তিনি।
ফারহাগ বলেন, ‘সবাই চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল হল থেকে। প্রায় ২০ মিনিট পুরো হলে শুধু ধোঁয়া ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ছেলেদের অংশে যারা ছিল তারা সবাই হয় মৃত না হয় আহত।’
বোমা বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা পরও সেখান থেকে উদ্ধারকারীরা মরদেহ বের করছে বলে জানান তিনি।







