আফগানিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যটা প্রথমে অনেক দূরের পথই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বৃষ্টি আইনে সেটা কমে আসায় আয়ারল্যান্ডের চ্যালেঞ্জটা সহজ হয়ে যায়। রশিদ খানের হয়তো সেটা পছন্দ হয়নি! বল হাতে তাই ঝড় তুলেছেন। আইরিশদের চমকে দিয়ে টি-টুয়েন্টিতে অন্যতম কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ডই গড়েছেন এই আফগান স্পিনার। ২ ওভারে মাত্র ৩ রানে ৫ উইকেট ঝুলিতে পুড়েছেন লেগস্পিনার রশিদ।
শুরুতে ব্যাট করে নাজিব তারাকাইয়ের ৯০ রানে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৪ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। ৭ চার ও ৫ ছয়ে ৫৮ বলে ইনিংসটি সাজিয়েছেন আফগান উদ্বোধনী। পরে বৃষ্টি বাধায় আয়ারল্যান্ডের লক্ষ্য নেমে আসে ১১ ওভারে ১১১ রানে। তাতে ৯ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রানের বেশি এগোতে পারেনি আইরিশরা। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ১৭ রানে ম্যাচ জিতেছে আফগানরা।
গ্রেটার নয়ডা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ তো জিতেছেই, আফগানিস্তান টি-টুয়েন্টিতে টানা জয়ের বিশ্বরেকর্ডটাও ১০ ম্যাচে বাড়িয়ে নিয়েছে।
ম্যাচে দুর্দান্ত ছিলেন রশিদ। নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন ২ উইকেট। পরের ওভারে কোন রান না দিয়ে ৩টি। সব মিলিয়ে ২ ওভারে ৩ রানে ৫ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এত কম রানে ৫ উইকেট পাওয়ার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা এটি। শ্রীলঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ একই কীর্তি গড়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে সেই ম্যাচে অবশ্য ৩.৩ ওভার বল করতে হয়েছিল হেরাথকে।
তবে দুটির কোনটিই আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড নয়। রেকর্ড এক শ্রীলঙ্কানের। ধূমকেতুর মত আবির্ভাব হয়ে হারিয়ে যাওয়া অজন্তা মেন্ডিসের। হাম্বানটোটায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন লঙ্কান স্পিনার। সেটাই সেরা।
টি-টুয়েন্টিতে ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনা আছে আরো দুটি। মেন্ডিসই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন আরেকবার। ভারতের যোগেন্দ্র চাহাল ২৫ রানে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংটি ইলিয়াস সানির। বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই স্পিনার। আর মোস্তাফিজুর রহমান ২২ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতার ম্যাচে।








