চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

আনন্দানুভূতি ও গভীর শঙ্কা নিয়ে দেশের পথে

রণেশ মৈত্র রণেশ মৈত্র
১০:৫২ অপরাহ্ণ ০৭, অক্টোবর ২০১৮
মতামত
A A

“ফিরে চল মাটির টানে
যে মাটি আঁচল পেতে
চেয়ে আছে মুখের পানে….”
বিখ্যাত এই গানটির উপরে বর্ণিত কলি কতই না প্রিয় ও আবেগ সঞ্চারিত ! দূরদেশ থেকে স্বদেশে ফেরার প্রাক্কালে এমন কোন বাঙালিকে হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না যার মনে ঐ স্তবকটি অনুরণ তোলে না। আটমাস কয়েকদিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনী নগরীতে থেকে দেশে ফেরার প্রাক্কালে আমার মনেও অনুরূপ প্রতিক্রিয়ার অনুভব। হয়তো বিমান থেকে নেমে দেশের মাটিতে যখন পা ফেলবো তখন আবার নি:শব্দেই হয়তো গেয়ে উঠবো
“ও আমার দেশের মাটি
তোমার পরে ঠেকাই মাথা”
বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাংলার কবি-শিল্পীরা কত অসাধারণ রচনাই না যুগ যুগ ধরে স্বদেশ প্রেমের অনুভূতি বাঙালি চিত্তে সঞ্চারিত করে চলেছে; আমার মত নীরস, কাঠখোট্টা মানুষের মনেও কবি শিল্পীদের চিরস্মরণীয় ঐ পঙক্তিগুলি অসাধারণ প্রেরণা আজও সৃষ্টি করে চলেছে।

অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম দফা আসি ২০০০ সালে। ভিসা ছিল ছয় মাসের। ঐ বছরেই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন হয়েছিল সিডনী নগরীতে-সিডনী অলিম্পিক। এ নিয়ে তখন দেশের কোন কোন পত্রিকায় সিরিজ লিখেছি। সে এক অসাধারণ প্রাণ চাঞ্চল্য লক্ষ্য করেছিলাম এখানকার নারী পুরুষ শিশু-কিশোর, যুবা-বৃদ্ধকে আহার নিদ্রা ত্যাগ করে উৎসবে মেতে উঠতে দেখেছিলাম ঐ অলিম্পিককে কেন্দ্র করে। বড় ছেলে প্রবীর টিকিট কেটেছিল একটি খেলা পরিবারের সবাই মিলে দেখবো বলে। কিন্তু বিধি-বাম। আকষ্মিক দুসংবাদ এলো পাবনা থেকে। মেজ ভাই, পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বীরেশ মৈত্র হার্ট এ্যাটাকে পরলোকগমন করেছে। দ্রুত ছুটতে হলো তার শেষ কৃত্যে যোগ দিতে-তাই খেলাটি দেখার যে অপূর্ব সুযোগ এসেছিল তা কাজে লাগানো গেল না।

তবে একটি আনন্দের কথা আজও আমরা ভুলি নি। ঐ দফা সিডনী ছয় মাসের ভিসায় আসার পর আমাদের নাতির জন্ম হলো- নাম দিলাম অনির্বাণ। অনির্বাণ শব্দটি নিলাম পৃথিবীব্যাপী ঘুরে যখন সিডনী এসে দৌড়াতে থাকলো-মনে পড়ে গেল সে দৃশ্য এবং একই সাথে মনে পড়লো শিখা অনির্বাণ। সেই অনির্বাণ আজ এইচ.এস.সি পড়ছে-আর ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও যোগদিতে শুরু করেছে।

এ রকম বহু সুখ স্মৃতি সিডনীকে ঘিরে, সিডনীস্থ আমাদের বর্ধিত পরিবারকে ঘিরে, এখানে প্রবাসী বাঙালি সংস্কৃতি সেবী, রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদেরকে ঘিরে। এ স্মৃতি শুধুমাত্র কথার কথা নয়-রীতিমত তা অন্তত: আমার কাছে বিশাল এক আনন্দঘন অভিজ্ঞতা যার জন্যে আমি গর্ব অনুভব করি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই সবার কাছে বিদায়ের এই লগ্নে।
বস্তুত:ই সিডনী আমাদেরই  পরিণত হয়েছে। ঘুরে ফিরেই এখানে আসি-আসতে বাধ্য হই প্রবীরের পীড়াপীড়িতে। প্রবীর ভাবে দেশে থাকলেই তার বাবা-মায়ের উপযুক্ত চিকিৎসা হবে না, তাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে না তাই সিডনীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুচিকিৎসার আধুনিকতম ব্যবস্থাদির সুযোগ নিয়ে সে আমাদেরকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমি ৮৬তে এবং সহধর্মিণী পূরবী যে ৭৬ এ পা রাখতে চলেছে এবং আর ভাবনায় নেই। তাই বার বার আসা-চিকিৎসাদির সকল সুযোগ গ্রহণে তাবৎ ব্যবস্থা-এগুলির স্মৃতি নিয়েই ফিরছি শীঘ্রই দেশের মাটিতে।

বিশাল দেশ অস্ট্রেলিয়া। সম্ভবত: ছয় সাতটি ভারতের আয়তনের যোগফলের সমান। তবে তার রাজ্য (প্রদেশের সংখ্যা মাত্র ৭/৮টি)। কিন্তু সারা অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বর্তমানে বাড়তে বাড়তে হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র আড়াই কোটি। কিন্তু জনসংখ্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে আদৌ নিয়ন্ত্রণ করা হয় না-বরং অধিক সংখ্যক সন্তানকে রাষ্ট্র স্বাগত জানায়।

এসব নিয়েই অস্ট্রেলিয়া একাই একটি মহাদেশ-যাকে ঘিরে রেখেছে প্রধানত: প্রশান্ত মহাসাগরের সুবিশাল অসীম জলরাশি। এই মহাদেশের আদি বসতি ছিল আদিবাসীদের। কিন্তু ইংল্যান্ড থেকে কয়েক শত-বছর আগে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের এই ছলে দ্বীপান্তরিত করা হয়। তারা ক্রমে ক্রমে যখন সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় তখন তাদের বাসস্থানের জন্য জমি এবং খাবার দাবারের প্রয়োজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই পর্যায় সংঘাত শুরু হয় এখানে আসা ব্রিটিশ কয়েদীদের সাথে।

Reneta

তখন তারা ইংল্যান্ড থেকে উৎখাত অস্ত্রপাতি আমদানি করতে শুরু করে। শুরু হয় যুদ্ধ ইংরেজদের সাথে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের। যুদ্ধ হয় দীর্ঘস্থায়ী। বলাই বাহুল্য, যুদ্ধটি ছিল অসম কারণ অস্ট্রেলীয় আদিবাসীদের হাতে ইট পাটকেল আর তীর ধনুক। এই অস্ত্র নিয়েই আদিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদী লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

ইংরেজরা আদিবাসীদেরকে পরাজিত করে তাদেরকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেগুলি দখল করে নিয়ে নিজেদের বসবাসের জন্য উন্নত ধরণের বাড়িঘর নির্মাণ করে। অনেক আদিবাসী নারীকে নিয়ে ইংরেজরা দৈহ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করায় বহু শিশু ঐভাবে জন্মও নেয়।

ধীরে ধীরে রাস্তাঘাট নির্মিত হয় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। শুরু হয় স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। এভাবে দেশটি ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের মতই গড়ে ওঠে। এখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ। ফল-কৃষি ও পশুপালন দুধ, মাখন, মাছ-মাংসের প্রাচুর্যের দেশ।

আদিবাসীরা ক্রমান্বয়ে শক্তিহীন হয়ে পড়ে তাদের সংখ্যা কমতে কমতে আজ সম্ভবত: ৫ থেকে ১০ লাখের বেশী না। অবশ্য সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য এ বিষয়ে আমার হাতে নেই কিন্তু কয়েক বছর আগে শুনেছিলাম সংখ্যাটা ৫ লক্ষ। নিশ্চিতভাবে ইতিমধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়েছে তবে ১০ লাখ নাও পৌঁছে থাকতে পারে। আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি, তাদের শিল্পকর্ম অত্যন্ত উন্নত। তাদের জন্যে তৈরি করা এবং অত্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করা মিউজিয়াম দেশের বেশ কয়েকটি শহরে রয়েছে। এগুলি এদেশের ইতিহাস জানতে অনুসন্ধিৎসু দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

অতীতের চাইতে কিছুটা উন্নত হলেও আদিবাসীরা শিক্ষা-দীক্ষা-চাকুরী-ব্যবসায় প্রভৃতিতে এখনও যথেষ্ট অনুন্নত। তাদের ভাষা সংস্কৃতি ও যথেষ্ট পরিমাণে পিছিয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের করণীয় বিস্তর কারণ অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত উন্নত (বহু সংস্কৃতির ও বহুভাষী) দেশ। তবে সত্যও বটে ইংরেজী ভাষার অন্তরালে স্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ও রাষ্ট্রের করণীয় বিস্তর কারণ যত বেশী ভাষা যত বেশী সংস্কৃতি উন্নত হবে নাগরিকরাও ততই উন্নত হবে পারষ্পারিক নৈকট্য ও মর্যাদা বোধও বাড়বে।

এবারে অস্ট্রেলীয় বাঙালি মূলত: সিডনীর প্রবাসী বাঙালিদের প্রসঙ্গে আসি। অস্ট্রেলিয়ায় যে সংখ্যক বাঙালি এ যাবত অভিবাসন করেছেন তার সিংহভাগই সিডনীতে। এখানকার পরিবেশ, আবহাওয়া অনেকটাই বাংলাদেশের আবহাওয়ার অনুরূপ নাতিশীতোষ্ণ। অবশ্য আজকের বাংলাদেশকে কোনক্রম্ইে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া সম্পন্ন দেশ বলে অভিহিত করা যায় না। বাংলাদেশ এখন কার্যত অত্যন্ত উষ্ণ একটি দেশে পরিণত হয়েছে। বছরে দুটি মাস বাদে বাকী ১০টি মাসই প্রচন্ড গরম-শীতকাল কার্যত: উধাও। দুটি মাস শীত থাকলেও তেমন একটা শীত অনুভূত হয় না ৫/৭ দিন ছাড়া। তাই গরম শীতবস্ত্রের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আমি যতটুকু অনুভব করেছি, সিডনীস্থ বাঙালি সমাজ সার্বিকভাবে দেশের সংস্কৃতি বজায় রেখে চলতে অত্যন্ত সক্রিয় ও সচেষ্ট। বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন বাঙালি শিল্পীরা এবং শিল্পানুরাগীরা। মাতৃভাষা বাংলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই সাধ্যানুযায়ী সচেষ্ট ভাবা অনুরাগীরা। কাজটি দুরূহ অত্যন্ত দুরুই কারণ বাড়ী থেকে বের হলেই সব কিছু ইংরেজি ভাষাতেই করতে হয়। কি স্কুলে কি কলেজে, কি বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিসে, আদালতে, ক্লাবে, লাইব্রেরীতে, শপিংমল এ এবং এক কথায়, শুধই ইংরেজির ব্যবহার। একটি আন্তর্জাতিক ভাষার এই দাপুটে বিচরণের মধ্যে অপর সকল ভাষাই বহুলাংশে কোণঠাসা হয়ে আছে। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ও অপরাপর উল্লেখযোগ্য ভাষা শিক্ষাদান এবং জীবন ও চাকুরী বাকুরীসহ সকল আর্থিক ক্ষেত্রে তার ব্যবহার যতদিন শুরু না হবে ততদিন অপরাপর ভাষা পর্দাল অন্তরালেই থেকে যাবে হয়তো।

এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বেশ কয়েকটি বাংলা পত্রিকার (অন্যান্য ভাষাতেও) প্রকাশ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলা পত্রিকাগুলি দৈনিক প্রকাশিত হোক-এমন ভাবনা এখনও বাস্তব সম্মত নয়। তবে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা, অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র আকৃতির হলেও, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, নারী উন্নয়ন ও সেগুলির পর্যালোচনা নিয়ে প্রকাশিত হওয়া অবশ্য প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সাপ্তাহিক পত্রিকা যথেষ্ট আকর্ষণে সক্ষম হবে কিনা, যথেষ্ট সংখ্যক বাংলা টাইপিস্ট ও সংবাদ কর্মী পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে। যথেষ্ট লড়াই করে এখানে সকলকে বাঁচতে হয়ে-বিপুল পৈত্রিক সম্পত্তির বা ব্যবসা-বাণিজ্যের মালিক তো কেউ নন। তাই যারাই কাজ করবেন ঐ সাম্পাহিকগুলিতে তাদের উপযুক্ত বেতন না দিলে কাউকে আকৃষ্ট করা সম্ভব না। তবে কেউ ফুলটাইম, আবার কেউ পার্ট টাইম কাজ করবেন- এ রকম কিছু একটা ভেবে দেখার প্রস্তাব রাখলাম বাংলা সাংবাদিকতা, বাংলা সাহিত্যিক, কবি প্রভৃতি তৈরির স্বার্থ।

এখানকার পত্রিকাগুলি বর্তমানে মাসিক আকারে (তবে সাহিত্যপত্র নয়) প্রকাশিত হচ্ছে যেমন মুক্ত মঞ্চ, স্বদেশ বার্তা প্রভৃতি। ছাপা এবং মুদ্রণ শৈলী ও বিষয়বস্তু আকর্ষণীয়। প্রবন্ধ, কলামগুলিও যথেষ্ট মানসম্মত এবং বিষয় বৈচিত্র্য সম্পন্নও বটে। আশা করি যারা এগুলি প্রকাশ করছেন তাঁরা আমার উপরোক্ত প্রস্তাবগুলি সক্রিয়ভাবে ভেবে দেখবেন। পত্রিকাগুলি আমার বেশ কিছু লেখা প্রকাশ করেছে।

এই দফা সিডনী সফর আমার ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ আনন্দের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর জন্যও বটে।
মধ্য জানুয়ারিতে সিডনী এলাম আমাদের আদরের নাতনী ঈশিতা মৈত্রের বিয়েকে সামনে রেখে। প্রচুর ধুমধাম সহকারে এই উৎসবটি সুসম্পন্ন হওয়ায় তৃপ্তি সবাই অনুভব করেছি মেতে থেকেছি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে। বাঙালী হিন্দু এবং অস্ট্রেলীয় খৃষ্টান দম্পতি উভয় সংস্কৃতির পৃথক পথক অনুষ্ঠান এবং সবশেষে মিলিত সম্বর্ধনা সৎসবে বহুজনের সাগ্রহ অংশগ্রহণ উৎসবের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নাতি অনির্বাণ এবারই প্রথম বিদেশে (ওয়েষ্ট ইন্ডিজ) ক্রিকেট থেকে এলো।
আবার আমার একুশে পদক প্রাপ্তি যেন সিডনীর সাংস্কৃতিক বাঙালি মহলকেও বিপুলভাবে উৎসাহিত করলো। কত যে অভিনন্দন বার্তা, কত সম্বর্ধনা, কত ক্ষেত্রে প্রধান বা বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ, যা সিডনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলির কাছে আমাকে কৃতজ্ঞতা টাকে আবদ্ধ করেছে।

সংবাদকর্মী আনিসুর রহমান সাখাওয়া নয়ন ও তার সহধর্মিনী অনিলা পারভীনসহ ঘন্টাব্যাপী যে সাক্ষাতকার নিয়ে ফেইস বুকে বিশ্বজোড়া তার ব্যাপক প্রচার করলেন তা ভুলবার নয়। ক্যাম্বেলটন বাংলা স্কুলের নিষ্ঠাবান শিক্ষিকা সেলিমা বেগম ও তারিক তার স্কুলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যে সম্বর্ধনার আয়োজন করেছিলেন তা এতই মুগ্ধ করেছিল যে স স্মৃতি বহন করবো আরও অনেকদিন।

জন্মভূমি টেলিভিশন সম্ভবত: ২০ ফেব্রুয়ারিতে নিলেন মস্ত ইন্টারভিউ যা প্রচারিত হলো ৬০ মিনিটেরও বেশী সময় ধরে। সে এক অনবদ্য আন্তরিকতামূলক অনুষ্ঠান। আরও অনেকে নানা সংগঠনে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করেছেন।

এখানকার আওয়ামীলীগ, আওয়ামী যুবলীগ নেতা নোমান শামীম একাধিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করেছেন।
অপর মিডিয়া কাম সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আবুল কালাম আজাদ এর নবধারা নিউজ সর্বশেষ আজীবন সম্মাননা দিয়ে অভিভূত করলেন এই তো দিন কয়েক আগে। একটি অসাধারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রাণভরে উপভোগ করেছি।

এখানে থাকাকালে এপ্রিলের শেষে এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন। প্রথম দিন তার সম্বর্ধনার বিশাল আয়োজনে শরীক হয়েছিলাম বিশেষ আমন্ত্রণে। এ অনুষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ করা যোেত সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে ও সিডনীর কৃতী বাঙালিদের সাথে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে।

এবারে আমি “প্রতীতি প্রসঙ্গে। আপাদমস্তক বাঙালি, বাঙালিত্বের ধারক, বাঙালী সংস্কৃতির উপাসক স্নেহভাজন সিরাজুল সালেকিন প্রসঙ্গে। সালেকীন অসাধারণ নিষ্ঠা নিয়ে বিপুল সংখ্যক সংগীত ও নৃত্য শিল্পী গড়ে তুলেছেন হাজার হাজার ঘণ্টা সময় ব্যয় করে একটি মাত্র লক্ষ্যে-সিডনীতে বাঙালির নতুন প্রজন্ম বাঙালি সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীতকে আপনা করে নিক। তার হাতে গড়া সংগঠন “প্রতীতি” যে উচ্চমানের অনুষ্ঠানদি দিয়ে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তা এক কথায় অতুলনীয়। পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র জন্ম ও প্রয়াণ, নজরুল জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী, সুকান্ত, পৌষ উৎসবসহ নানা কিছুর আয়োজনে জীবনভর তার ব্যস্ততা। দেশেও প্রগতিশীল ছাত্র-আন্দোলনই ছিল সা-লেকিনের ব্যাপক অবদান।

প্রতীতি সিডনীতেই শুধু নয়-গোটা অস্ট্রেলিয়ায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন নানা সময়ে করেছে-ছায়ানট উদীচীর সাথেও আছে তার সক্রিয় যোগাযোগ।

প্রতীতি ও সা-লেকিন ও এখানকার সাংস্কৃতিক কর্মীরা এক অবিভাজ্য বন্ধনে আবদ্ধ। গোটা অস্ট্রেলিয়া ব্যাপী প্রতীতির সাংগঠনিক প্রসার ও বিস্তৃতি ঘটুক কামনা করি। এ আকাংখ পূরণও হবে বিশ্বাস রাখি। এই সব সুখ-স্মৃতি অতীতের সকল সিডনী সফরের স্মৃতিকে ছাপিয়ে উঠেছে যা মনে থাকবে বহুদিন।

আবার বেদনার্ত চিত্তে দেশে ফিরতে হচ্ছে সে দুশ্চিন্তাও কম নয়। আমাদের মেজ মেয়ে মালবিকা দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্বদ্যিালয় হাসাপাতালে আই.সি.ইউতে কঠিন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। মালবিকাকে আমরা কুমকুম বলে ডাক। কুমকুমের জন্ম ১৯৭০ সালে। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালে সে মায়ের কোলে আজ গ্রামে কা সে গ্রামে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে অবিরাম পাক-বাহিনীর গুলিতে পাখীর মত মানুষ মারার দৃশ্য দেখেছে-শিশুচিত্ আতংকিত হয়েছে। আর সেখান থেকেই তার দেহে নানা রোগের উৎপত্তি। আমাদের কুমকুম মুক্তিযুদ্ধ সচেতনভাবে দেখেনি কিন্তু তার বেদনা আজও সয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে বাঁচনোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা সবাই-পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষী আরও অনেকে।

ফিরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে আদরের মেয়ে কুমকুম অন্তরে এই কামনা নিয়েই দেশে ফিরছি বেদনাহত শঙ্কিত উদ্বিগ্ন আশাবাদী চিত্তে।

সিডনী বাসী সকল সুহৃদ ভাল থাকুন।
জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপিগরীয়সি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: অস্ট্রেলিয়া
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

এখনও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জুলাই ১৬, ২০২৬

পিকফোর্ডের পানির বোতলে পেনাল্টি পরিকল্পনা, ফাঁস করে দিলো আর্জেন্টিনা

জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘন্টায় হামে আরও ৮ জনের মৃত্যু

জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মা-বাবার তালাক বিরোধে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট

জুলাই ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদির কাছে ১৯৬ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

জুলাই ১৬, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT