আইসিসি টেস্ট র্যাংঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো পাওয়া আট নম্বর স্থান বাংলাদেশের জন্য ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
টেস্ট দলের বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হলেও এই কৃতিত্ব মুশফিকের। কেননা তার নেতৃত্বে পাওয়া সাফল্যই ব্যবধান গড়েছে র্যাঙ্কিংয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলতে পারার বড় কারণ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়। শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচ জয়। যে সাফল্যের নেতৃত্বে ছিলেন মুশফিক।

গোড়ালির চোট কাটিয়ে মঙ্গলবার মাঠে ফিরেছেন মুশফিক। রানিং করেই ছুটে যান কল্যাণপুরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে। সেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সঙ্গে সময় কাটান। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান টেস্ট র্যাংঙ্কিংয়ে আটে ওঠার অনুভূতি। কথা বলেন আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজ ও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে।
মুশফিক বলেন, ‘আগে দেখেছেন আমরা ওয়ানডেতে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। টি-টুয়েন্টিতে আশানুরূপ উন্নতি না হলেও শেষ টি-টুয়েন্টি সিরিজটা ভালো গেছে। টেস্টে যে আমরা উন্নতি করছি, শেষ চার-পাঁচ বছর যে ভালো করছি, র্যাংঙ্কিং তাই বলছে। এক সিরিজ ভালো খেললে তো আর উন্নতি হয় না। কিন্তু এখন অবস্থান ধরে রাখা কঠিন, এবং এর থেকে উপরে যাওয়া আরও কঠিন হবে সামনে। তবে আমাদের দলের যে খেলোয়াড়রা আছেন তাদের সামর্থ্য আছে এগিয়ে যাওয়ার।’
মুশফিক মনে করেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারানোয় র্যাংঙ্কিংয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে, ‘আমাদের পরিকল্পনাই এটা ছিল। কারণ হোম কন্ডিশনে ভালো করার সুযোগটা বেশি, আর যেকোনো দলের জন্যই এখানে খেলা কঠিন হয়। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম হোম কন্ডিশনে যদি অলআউট ক্রিকেট খেলতে পারি। রেজাল্ট আমাদের পক্ষে এলে অনেক অর্জন আসবে। পরিকল্পনার কথা ভাবলে এই দুই সিরিজ খুবই ভালো ছিল। আর একটা বিশ্বাসও দরকার ছিল নিজেদের। সেটা আমাদের মনে হয় সামনে কাজে লাগবে।’
তার নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উঠলে বললেন, ‘এটা অবশ্যই এক দিক দিয়ে ভালো লাগে। কারণ আমি যেসময় অধিনায়ক ছিলাম, তখন বড় জয় ছিল। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিলাম। স্মৃতি তো অবশ্যই একটা থাকে। ভালো লাগা কাজ করে। তারপরও আমি মনে করি ক্যাপ্টেন বড় পার্ট হলেও প্লেয়ারদের সাফল্য না থাকলে কখনই এটা সম্ভব না। আমার সময় ওই কয়েকটা সিরিজ যারা খেলেছেন, কঠোর পরিশ্রম করেছেন। শুধু প্লেয়াররা না কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সবাইকেই কৃতিত্বটা দিতে চাই।’
২০১৯ সালের বিশ্বকাপে প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে ৯টি করে ম্যাচ পাবে। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে এই পদ্ধতিতে খেলা হচ্ছে। মুশফিক বললেন এমন একটু সুযোগ বাংলাদেশের দরকার ছিল, ‘সবার সঙ্গে সবার খেলা হবে। ওইরকম সুযোগ আমাদের দরকার ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমাদের ভালো একটা স্মৃতি আছে ইংল্যান্ডে। আশা থাকবে, সবার প্রত্যাশাও থাকবে বাংলাদেশ দল আগে যা করেছে তারচেয়ে বেটার করবে। সেই সামর্থ্য আছে আমাদের। আমি মনে করি আমরা যারা চার-পাঁচজন সিনিয়র আছি এবং জুনিয়ররাও মিলে যদি খেলতে পারি তাহলে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে।’
নিজের চোটের অবস্থা জানাতে গিয়ে বললেন এখনো শতভাগ সুস্থ হননি।
‘ফিটনেস শতভাগ এখনো আসেনি। ৯০-৯৫ শতাংশ বলা যায়। গত তিন-চার দিন থেকে রানিং শুরু করেছি। স্কিল ট্রেনিং তাড়াতাড়ি শুরু করব।’
লম্বা একটা বিরতির পর জুনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেই সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও জানান তিনি, ‘শেষ আট-নয় মাস একাধারে ক্রিকেট খেলেছি। বিপিএল, শ্রীলঙ্কা সিরিজ, নিধাস ট্রফি, ঘরোয়া লিগ। দুই সপ্তাহ বিশ্রাম অনেক প্লেয়ারের জন্য হেল্পফুল হবে। তারপর ফিটনেস ক্যাম্প থাকবে। আমার মনে হয় পুরো প্রস্তুত হয়েই যেতে পারব। খুব ভাল একটি সিরিজ আফগানিস্তানের সঙ্গে। যেখানে শেষ করেছি, শুরুটা ওখান থেকে করলে খুব ভাল হবে। খুব ভাল দুটি সিরিজ সামনে। চেষ্টা করব আফগানিস্তান দিয়ে শুরুটা ভাল করার।’
আফগানিস্তান এখন দারুণ ছন্দে আছে। তাদের ফর্ম বিবেচনায় টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, ‘এটা তো বিসিবির ব্যাপার। আর যেহেতু বলা হয়েছে টি-টুয়েন্টি কমই খেলি, এটাও আমাদের একটা সুযোগ। টি-টুয়েন্টি কম খেলি বলতে পাঁচ-ছয় মাস বিরতি দিয়ে আবার খেলি। ওই সময়টায় দেখা যায় যে ফরম্যাটে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। তারা খুব বিপদজনক দল। তাদের প্লেয়াররা আইপিএলও খেলছে, কত ভালো খেলছে। আমাদেরও সেই সামর্থ্য আছে।’







