প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দিয়ে আমরা পরমাণু বিশ্বে প্রবেশ করলাম।
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় তিনি আরো বলেন, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইতিহাস আছে। বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো কিন্তু উন্নয়ন হতো পাকিস্তানের। তারা শুধু মাঝে মাঝে মুলা ঝুলাতো। এর আগে পারমাণবিক কেন্দ্র করার কথা বলেছিলো তারা। পরে সেটা হয় পাকিস্তানে।
যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশকে গড়ে তোলার কথা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ে দেশকে গড়ে তোলা খুব কঠিন ছিলো। ড. ওয়াজেদ মিয়াও ছিলেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে। এই বিষয়ে তিনি খুব সিরিয়াস ছিলেন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে গিয়ে বিভিন্ন নিয়ম নীতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি মানলাম। যেখানে হবে সেই জায়গাটা দেখলাম। পরীক্ষা করলাম সেই জায়গাটা উপযোগী কিনা। এরপর প্রয়োজন বিশাল অংকের টাকা। পরে রাশিয়ায় গিয়ে আলোচনা করি। তারা জানায়, করে দিতে পারবে, যত টাকা লাগবে তারা দিবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বেশি হলেও বিদ্যুৎ পেতে খরচ খুবই কম লাগবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এখান থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে ১০ ভাগ চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারবো। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। তারপরও যারা প্রশ্ন তোলে তাদের আসলে আত্মবিশ্বাস কম। সঙ্গে রয়েছে পরশ্রীকাতরতা। একদল কোনো উন্নতি করলেই তারা কথা বলা শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। যাতে কোনো রকম ক্ষতি না হয়। স্বচ্ছতার সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচী এগিয়ে নিচ্ছি। যেন নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি দেখা না দেয়। পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো দুর্যোগে যেন বিপদে পড়তে না হয় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। দক্ষ জনবল আমাদের দরকার, তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাদের দরকার তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।








