দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই দাবি করে সরকারের উদ্দেশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে কোন নির্বাচন হবে? যে দেশে সরকারি দল ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল মিটিং, সভা-সমাবেশ করতে পারে না, দলীয় আলোচনা করতে পারে না, লিফলেট বিতরণ করলেও ধরে নিয়ে যায়, সে দেশে নির্বাচনের কথা বলা তো লজ্জার। তার চেয়ে আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দিয়ে দেন। অন্যান্য দেশ যেভাবে দিয়েছে সেভাবে দিয়ে দিলেই পারেন।
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় যুব সংহতির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, এই সরকার একদলীয় সরকারের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদোশে সেটা সম্ভব না। আইয়ুবকে খান ১২ বছর পর নির্মমভাবে বিদায় নিতে হয়। এরশাদকে করুণভাবে বিদায় নিতে হয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাস তো এটাই। তাদের দুঃশাসনের কারণেই ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। তা ছিলো মানুষসৃষ্ট। সম্পদ পাচার আর দুর্নীতিতে মানুষ দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। আজও তাই। দেশে প্রকৃতপক্ষে কোনো উন্নতি নেই। মানুষের কোনো আয় বাড়ছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন তখনই হবে যখন পরিবেশ তৈরি হবে, যখন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে, যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে, এর আগে নয়। অবিলম্বে খালোদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তার ইচ্ছানুযায়ী তিনি চিকিৎসা নেবেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। তবেই নির্বাচন হবে।
সভায় ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করমর্দনরত হাস্যজ্জ্বোল ছবি নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সরকার প্রধান বিদেশের কোনো প্রধানের সঙ্গে করমর্দন করলে আমাদের ভালো লাগে। এসব দেখলে খুশি হই। কিন্তু রানী এলিজাবেথ করমর্দন করছেন এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, যে দেশে আইনের শাসন নেই, মানুষের অধিকার নেই, যে দেশে বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য অন্য সব রাজনৈতিক দলের অধিকার হরণ করা হয়।
তিনি বলেন, করমর্দন করছেন ঠিক আছে। কিন্তু আমরা রেজাল্ট কি দেখতে পাচ্ছি? রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেননি। তিস্তা নদীর পানির কোনো সুরাহা করতে পারেননি। কিন্তু বলছেন ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক।
তিনি আরো বলেন, এ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য আরেকটি অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া। তাই মিথ্যা সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই অপকৌশল বাস্তবায়ন হবে না।







