ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো একটি জাদুঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে গেছে ২ কোটির অধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন। ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ ঘটনাকে বড় ধরণের ক্ষতি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেশটির সাবেক রাজধানী উত্তরদিকে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খুব দ্রুত আগুনটি পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর দীর্ঘ চেষ্টায় রোববার শেষ রাত নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কেবল ব্রাজিল নয় এটি ছিল পুরো ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ একটি জাদুঘর। এক সময় পর্তুগিজ রাজ পরিবারের বাস ছিল জাদুঘরের এই বাড়িটিতে। তাদের স্মৃতিও বিলুপ্ত হয়ে গেল এ অগ্নিকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।
তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে জিওয়ান নামের স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম।
ইতিহাসবিদরা এ ঘটনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মাইকেল টিমার তাৎক্ষণিক এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ‘ব্রাজিল তার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত অসংখ্য মূল্যবান সম্পদ হারালো’।
তিনি আরো বলেন, এর মধ্য দিয়ে প্রায় ২০০ বছর ধরে সংরক্ষণ করা কাজ,গবেষনা আর জ্ঞান হারিয়ে গেল। যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোন কিছু দিয়েই পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
এ জাদুঘরের ন্যাচারাল হিস্ট্রি কালেকশনের মধ্যে ছিল ডাইনোসরের হাড় এবং ১২ হাজার বছর আগের এক মানুষের মাথার খুলি।
১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ব্রাজিলের দেখভালের দায়িত্বে ছিল যৌথভাবে রিও ডি জেনিরো ফেডারেল ইউনিভার্সিটি এবং ব্রাজিলের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিভিন্ন সরকারের সময়ে এই মিউজিয়াম অবহেলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের। জাদুঘরের উপ পরিচালক লুইজু দুয়ার্চি স্থানীয় একটি টেলিভিশনে বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা কিছুই পাইনি। কিছুদিন আগে আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিএনডিইএস এর সঙ্গে একটা সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলাম, যাতে ওই ভবনের সংস্কার করার জন্য টাকা পাওয়া যায়।
আমরা অগ্নি নির্বাপনী ব্যবস্থাও নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলাম।







