’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো সরকার দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন: জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নে কাজ করেননি, তারা কাজ করেছেন নিজেদের উন্নয়নের জন্য।
রোববার বিকেলে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: জিয়া এবং এরশাদের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়াও দুর্নীতি এবং লুটপাট করেছেন। এতিমের টাকা নিয়েও তিনি দুর্নীতি করেছেন, আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া আজ জেল খাটছেন।
বর্তমান সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনতে জনসভায় চাঁদপুরবাসীর কাছে ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন, তার দেখানো পথে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। বাংলাদেম আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা আর কারে কাছে হাত পাতবো না, ভিক্ষা চাইবো না, উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবো।
আওয়ামী লীগ সরকার সেই পথেই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমরা ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি, আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, লুট, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বাস পুড়িয়ে দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে। লাখ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত লার সবুজ পতাকা তুলে দিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে। তারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়েছে খালেদা জিয়ার ছেলে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আবারো দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে আওয়ামী লীগ, সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। আমরা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান করেছি, কর্মসংস্থান সৃািষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ব্যাংক করে বেকারদের বিনা জামানতে লোনের ব্যবস্থা করেছি, এক বছরে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছি বিদেশে, প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যা যা অঙ্গীকার করেছিলাম তার সবকিছুই করেছি, একটু বেশিই করেছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের সময় দেশে মোবাইল উন্মুক্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। শিক্ষার প্রসারে বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি, মোবাইলের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা এখন সরাসরি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইলে চলে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্বাধীনতা পেয়েছি তাদের কল্যাণে আমরা কাজ করেছি। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, তাদের সন্তান-নাতি-নাতনিদের জন্য চাকরিতে কোটার ব্যবস্থা করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা আমাদের কর্তব্য। ভয়স্ক, বিধবাদের জন্যও আমরা ভাতার ব্যবস্থা করেছি।
দেশের কোন মানুষ অন্ধকারে থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি। বিএনপি যেখানে ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছে, সেখানে আমরা ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদপাদন করেছি। দেশের কোন মানুষ অন্ধকারে থাকবে না, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
চাঁদপুরবাসীর জন্যও তার সরকার অনেক কাজ করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই চাঁদপুরে আমরা ব্রিজ-কালভার্ট করেছি, আজকেও ৪৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো আপনাদের জন্য আমার উপহার, এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেয়া হবে, নৌবন্দর করা হবে, এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
চাঁদপুরবাসীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমার কাছে আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল চেয়েছেন, আড়াইশ শয্যার না আমি আপনাদের চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দিবো। এসময় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার জন্য তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি চান।
জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে রোববার সকালে প্রথমবারের মতো চাঁদপুরের হাইমচরে স্কাউট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাত হাজারেরও বেশি স্কাউট সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ওই সমাবেশেও প্রধানমন্ত্রী যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় আট বছর পর চাঁদপুর সফর করেন। সেখানে তিনি ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।







