আগামী নির্বাচনেকে আওয়ামী লীগের আবারও অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া বলে আশংকা করছে বিএনপি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এমন শংকা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। দলটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আবারও একটি একদলীয় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।
কিন্তু এই খায়েশ পূরণ হবে না আওয়ামী লীগের। দেশের মানুষ আর কোন ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দিবে না বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১০ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যে দলটি (আওয়ামী লীগ) লড়াই করেছে দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই দলটির হাতেই দেশের গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে তার শুরু। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একটি ভোটারবিহীন সরকার গঠন করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখনই তাদের ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট চেহারা বেরিয়ে আসে, এক নায়কের চেহারায় ফুটে উঠে, অগণতান্ত্রিক চেহারা প্রকাশ পায়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ এর মতো গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সামনের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা এই অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চায়।
ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ২০১৪ সালের মতো কোন নির্বাচন দেশের মানুষ আর হতে দিবে না। বিএনপি নির্বাচন করবে। তবে তা কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নয়। নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে একই আশংকা প্রকাশ করেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আগামী নির্বাচনের প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপির জনপ্রিয়তা তাদেরকে আরো বেশি বেপরোয়া করে তুলেছে।
খসরু বলেন, সরকার আবারও ২০১৪ সালের মতো অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ তা হতে দিবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই। আগামীর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে দিতে হবে।
এসময় ২০১৮ সালকে বাংলাদেশের মানুষের, দেশের গণতন্ত্রের এবং দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার বছর বলে অবহিত করেন আমির খসরু।







