রক্ষণে ভিড় বাড়াও। সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই নীতি গ্রহণ করে ১-১ সমতায় পয়েন্ট বাগিয়ে নিয়েছে আইসল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করায় পূর্ণ পয়েন্ট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে তার দলকে।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেও ১-১ সমতায় থাকে। আগুয়েরো গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয়ার ৪ মিনিট বাদে সমতায় ফেরে তিন লাখ ৩৫ হাজার মানুষের দেশ আইসল্যান্ড।
মেসি এদিন সেন্টার মিডফিল্ডে খেলায় অধিকাংশ সময় আর্জেন্টিনা মাঝখান দিয়ে আক্রমণে গেছে। উইং দিয়ে ভালো আক্রমণ গড়তে না পারায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভাঙন ধরানো সম্ভব হয়নি। মাঝমাঠের উপরে প্রচুর পাস খেলেছে সাম্পাওলির দল। কিন্তু প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে ফাঁদে ফেলতে যে তৎপরতার দরকার সেটি ছিল না।

৫ মিনিটের সময় প্রথম সুযোগ সৃষ্টি করে আর্জেন্টিনা। বক্সের বাঁদিকে মেসি ফ্রি-কিক নেন। সেটি ডিবক্সে তুলে দিলে কেউ বলে যেতে পারেননি। ওটামেন্ডি ছিলেন সবচেয়ে কাছে।
৮ মিনিটে মেসির আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। এবার শট নেন বক্সের ডানদিক থেকে। তাগলিয়াফিকো মাটিতে পড়ে যাওয়ার সময় বলে মাথা দেন। চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে।
৯ মিনিটের সময় আইসল্যান্ড প্রথম সুযোগ পায়। বিরকির বজারসন দারুণ পজিশনে ছিলেন। কিন্তু টার্গেট ঠিক রাখতে ব্যর্থ হন।
১৯তম মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। মার্কোস রোহো ভিড়ের ভেতর আগুয়েরোকে বল দেন। প্রথম টাচের পর দেরি না করে শরীর ঘুরিয়ে জোরালো শট নেন আগুয়েরো। উপরের কোনা দিয়ে বল জড়িয়ে যয়ে জালে। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল।

২৩তম মিনিটে আইসল্যান্ডকে সমতায় ফেরান আলফ্রেড ফিনবোগাসন । ভিড়ের ভেতর গেলফি সিগুর্ডসন গোলমুখে শট নিলে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক উইলফ্রেডো কাবাল্লেরো সেটি ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বল এসে পড়ে ফিনবোগাসনের সামনে। দারুণ একটি পুশে বল ঠেলে দেন জালে।
২০১৬ ইউরো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা দল আইসল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও সেই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। আর্জেন্টিনা পাসিং ফুটবলে নজর দেয়। ৬২তম মিনিটে বক্সে মেসিকে ফাউল করলে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টিতে মেসির যে দুর্বলতা রয়েছে, এদিন সেটি আরেকবার প্রমাণিত হয়। বাঁদিকে শট নিলে ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন আইসল্যান্ড গোলরক্ষক।
ডি মারিয়াকে উঠিয়ে শেষদিকে পাভনকে নামান আর্জেন্টিনা বস সাম্পাওলি। এরপর আক্রমণভাগে শক্তি বাড়াতে মেজাকে তুলে হিগুয়েনকেও নামিয়ে দেন। দুটি পরিবর্তন নিয়েও গোল বের করতে পারেনি দলটি।
৮১তম মিনিটে মেসির দারুণ একটি দূরপাল্লার শট বার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়েও তার আরেকটি বিদ্যুতগতির শট পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায় ম্যাচও!








