দ্রুত বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর থেকে যে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ চলছিল তা আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। তার মানে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৫ আগস্টের পরিবর্তে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বিধিনিষেধ। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ ছিল আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বিধিনিষেধ বাড়ানোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পাঁচদিন বেড়েছে।
মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তাতে সভাপতিত্ব করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিধিনিষেধ বাড়ানোর ঘোষণার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ১১ অগাস্ট থেকে ১৮ বছরের ওপরের কোনো মানুষ ভ্যাকসিন ছাড়া মুভমেন্ট করলে সেটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভ্যাকসিন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে যেতে পারবে না।
মন্ত্রীর এই ঘোষণায় এরই মধ্যে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ১৮ বছরের ওপরের সব মানুষকে কি টিকার আওতায় আনা গেছে? সুনিদির্ষ্ট তথ্য না থাকলেও দেশে ১৮ বছর বয়সের ওপরের মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ১০ কোটি। এখন পর্যন্ত টিকা নিয়ে সরকার যে তথ্য জানিয়েছে, তাতে দুই ডোজ টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখের কিছু বেশি। আর এক ডোজ টিকা পেয়েছে কোটির ওপরে মানুষ। তাহলে যাদেরকে সরকার টিকাই দিতে পারেনি; তাদের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর এমন বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য?
এটা ঠিক করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকার কোনো বিকল্প নেই। তবে এর পাশাপাশি মাস্ক পরা-সহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও জোর দিতে হবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আজকের বৈঠকের পর সবাইকে মাস্ক পরায় বাধ্য করতে পুলিশকে জরিমানার ক্ষমতা দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এতদিন যে কাজটা করে আসছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দেশে করোনাভাইরাস আসার এই দেড় বছরের মধ্যে আমরা সাধারণ ছুটি, লকডাউন, বিধিনিষেধ কিংবা কঠোর বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো দেখেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনোটাই সঠিকভাবে মানুষকে মানানো যায়নি। এমনকি বড় অঙ্কের জরিমানা, ক্ষেত্র বিশেষে কারাগারে পাঠিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি। আবার পোশাকশিল্প-সহ কারো কারো ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে।
আমরা মনে করি, সবার ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ না হলে কোনো কিছুতেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। পুলিশকে জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে? সময়ই সেটা বলে দেবে।








