লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মস্কো অফিস সিলগালা করে দিয়েছে রাশিয়া। বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করায় বুধবারর অফিস সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যামনেস্টি।
এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
অ্যামনেস্টির রুশ অফিসের মুখপাত্র বলেন, সকালে কাজের জন্য অফিস গিয়ে দেখি তালা নেই দরজা সিল করা, বিদ্যুতের লাইন কাটা ও এলার্ম সিস্টেম নিষ্ক্রিয়।
তিনি আরো বলেন, অফিসের দরজায় মস্কো কর্তৃপক্ষের নোটিশ লাগানো। সেখানে লেখা, রাশিয়ান কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এবং এই সম্পত্তি রুশ ফেডারেশনের এই শহরের(মস্কোর)।
মস্কোর শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, যাদের কাছ থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়েছে তারা অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে ভাড়া না দেয়ার অভিযোগ করেছে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যামনেস্টি বলেছে, ভাড়া পরিশোদের সমস্ত প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

এক বিবৃতিতে মস্কো কর্তৃপক্ষ বলেছে, শহরের সম্পত্তি বিভাগ বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য অ্যামনেস্টিকে লিখিত আদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা অমান্য করে অ্যামনেস্টি ভাড়াটিয়ার ভাড়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। আর এই কারণেই অফিস বন্ধ করে তা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
অফিস বন্ধের পর অ্যামনেস্টির ইউরোপিয়ান ডিরেক্টর জন ডালইসেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই উদ্ভট দাবি কোনো মতেই সত্যি নয়। অ্যামনেস্টি এই বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ পায়নি। অক্টোরব মাসের ভাড়াও শোধ করা হয়েছে এবং সেই ভাড়ার রশিদ আমাদের কাছে রয়েছে।
অ্যামনেস্টির লন্ডন অফিস থেকে বলা হয়েছে, কাজের ব্যাপারে সস্প্রতি আমরা কোনো সতর্কবার্তা পাইনি এবং কি কারণে অফিস সিলগালা করা হয়েছে সেটাও পরিস্কার না। তবে পরিস্থিতি বুঝে সংগঠনের মস্কো অফিসের কর্মকর্তারা যতো দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।
অফিস সিলাগালা করা হলেও সেখান কোনো ধরনের তল্লাসী বা কাউকে গ্রেফতার করার মতো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছেন জন ডালইসেন।
তিনি আরো জানান, আমরা শতভাগ অতিবিশ্বাসী কারণ আমরা ভাড়াটে হিসাবে আমাদের সব দায়িত্ব পালন করেছি।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিরোধীদের উপর নির্যাতনের জন্য রাশিয়া সরকারের সমালোচনা করে আসছে অ্যামনেস্টি। বিশেষ করে বিরোধী নেতা ইদার দাদিনকে জেলে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের জন্য রুশ সরকারকে আহ্বান জানায়।
রাজপথে বিক্ষোভের জন্য দাদিনকে আটক করে সরকার। অভিযোগ উঠেছে তাকে জেলে ব্যাপক নির্যাতন করার পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তবে রুশ জেল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। আর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবগত করা হবে।
দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আপত্তিকর কোনো কাজে যুক্ত বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত এনজিও নিষিদ্ধ করতে গত বছর একটি আইন পাশ করেছে রুশ সংসদ। এই আইনের আওতায় পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি বিদেশি অনুদানে চলা সব এনজিওর নথি চেয়ে পাঠিয়েছে সরকার।
এছাড়াও গত সপ্তাহে ঐতিহাসিক ভোটে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সদস্যপদ হারিয়েছে রাশিয়া।







