২৭ এপ্রিল সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পেয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। শুধু রিভিউ পড়ে ও অনেক পরে টরেন্ট ডাউনলোড করে না, দেশে বসে মারভেল সিরিজের ঝকঝকে ছবি দেখতে পাওয়ায় দেশের কিশোর-তরুণরা ছিলো আনন্দে আত্মহারা। মুক্তির আগের দিন থেকে রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে টিকিটের জন্য লম্ব লাইনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ আর সামাজিক গণমাধ্যমে টিকেট নিয়ে ট্রল করার কারণে আগ্রহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আগ্রহ আর চাহিদার যোগান দিতে নামকরা সিনেপ্লেক্সের বাইরেও বিভিন্ন প্রচলিত সিনেমা হলেও মুক্তি দেয়া হচ্ছে ছবিটি।
মারভেল সিরিজের সিনেমা যারা নিয়মিত দেখেন না বা এই প্রথম ইনফিনিটি ওয়ার দেখলেন, তাদের মনে সিনেমা দেখার পরে নানা প্রশ্ন তৈরি করবে। যেমন শুরুতেই যে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র, তা কোথা থেকে এলো? জনপ্রিয় ‘থর’ কেন এতো আহত? লোকি’র কাছ থেকে থানোস (মূল ভিলেন) উজ্জল পাথরটি কেনো নিল? থানোসের কন্যা কীভাবে তার বিপক্ষে চলে গেল? একে একে কোথায় মিলিয়ে গেলো সুপার হিরোরা? এরকম অনেক প্রশ্ন!
মারভেল কমিকসের পাঠক ও সিনেমার নিয়মিত দর্শকের কাছে নতুন সিনেমা মানেই পুরাতন আরেকটি পাজল/রহস্যের খোলাসা। মারভেলের কোনো কোনো সিনেমার রহস্যের উত্তর ২/৩ বছর পরে দেবারও ইতিহাস রয়েছে। সেভাবেই সাজানো হয় সিনেমার চিত্রনাট্য।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ এর গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরির পেছনে রয়েছে ১০ বছরের পরিশ্রমমাখা বিভিন্ন সিনেমার টুকরো রহস্য। ২০০৮ সালে ‘আয়রনম্যান’ দিয়ে শুরু, তারপরে বিভিন্ন সিনেমা মুক্তি দিয়েছে মারভেল। ইনফিনিটি ওয়ারের আসল মজা পেতে হলে কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ‘থর’ ও ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ দেখে নিতে হবে। তাহলেও মজা মিলবে নতুন দর্শকদের। আর নিয়মিতদের জন্যতো ইনিফিনিটি ওয়ার চলমান আনন্দের খোরাক।
বিগ বাজেটের ও দ্রুত পয়সা উসুলের এই সিনেমার সব সুপার হিরো মারভেল ফ্যানদের অতিপরিচিত। তবে ইনফিনিটি ওয়ার সিনেমায় আয়রনম্যান, স্পাইডার ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকার সঙ্গে সঙ্গে হালের ব্ল্যাক প্যান্থারের আগমনের সময় তাদের ফ্যানদের উল্লাস আপনাকে বুঝিয়ে দেবে, কে কতোটা জনপ্রিয়। তবে শক্তি আর ব্যক্তিত্বের দিক থেকে থরের রয়েছে বিরাট ফ্যানগ্রুপ। এসব সুপার হিরোদের সঙ্গে সঙ্গে সুপার ভিলেনদের নির্মমতা ও পাওয়ারের কারিশমাও দর্শকদের টেনে রাখতে পেরেছে। থানোসের পর্দা উপস্থিতি ছিল দেখার মতো, সঙ্গে এবনি মাওয়ের ধীরগতির সংলাপের সঙ্গে ক্ষমতা প্রদর্শন। ক্ষমতার জন্য নিজ কন্যাদের সঙ্গে থানোসের নির্মমতা, পিতৃত্ব আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চোখের পানি এবং ক্ষমতা হাসিলে ভয়াবহ সব অ্যাকশন দর্শকদের দম আটকে দেবার জন্য যথেষ্ট।
ইনফিনিটি ওয়ার সিনেমার ব্যয়বহুল সেট আর থ্রি-ডি চমকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অ্যাকশন এক কথায় দারুণ। মারভেল কমিকসের অনেক সিরিয়াস চরিত্রগুলোর মজা আর রসভরা সংলাপ কিশোর-তরুণদের মাতিয়েছে। উত্তেজনাকর মারপিটের দৃশ্যের মাঝে হাল্কের অসহায়ত্ব মাখা মজার সংলাপের পাশাপাশি গাছমানব গ্রোট, পুচকে র্যাবিট, গম্ভীর ড্রাক্সস আর স্টার লর্ডসের কৌতুক সংলাপ দর্শকরা বেশ উপভোগ করবেন।
ব্ল্যাক প্যান্থারের শহর ‘ওয়াকান্ডা’ মারভেল ফ্যানদের মনোযোগ কাড়তে ক্ষম হয়েছে আগের মুভিতেই, ইনফিনিটি ওয়ারের শেষ অ্যাকশনও হয় ওই হাইটেক-নগরী ওয়াকান্ডাতেই।

মারভেল সিনেমাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে দারুণসব মিউজিক ট্র্যাক দেবার যে ইতিহাস, ইনফিনিটি ওয়ারে তার কিছুটা ঘাটতি চোখে পড়বে। তবে আবহ সঙ্গীত একেবারে খারাপ না। দুয়েকটি নির্দোষ চুমুর দৃশ্য ছাড়া পুরো সিনেমা শিশু-কিশোর উপযোগী।
সুপার হিরোদের ভিড়ে নারী চরিত্রগুলোর উজ্জল উপস্থিতি ও বিভিন্ন সাহসী অ্যাকশন ভাল লাগার মতো একটি বিষয় এই সিনেমায়। মূল ভিলেন থানোসের কন্যা গামোরার চরিত্রটি চরম উত্তেজনার মধ্যে একটু দম নিতে সাহায্য করবে দর্শকদের। থানোসের পালিত কন্যা নেবুলাকেও দেখা গেছে বেশ ইতিবাচক চরিত্রে। ব্ল্যাক প্যান্থারের বোন সুরি হাইটেক-নগরী ওয়াকান্ডার টেকনোলজি ও সিকিউরিটি দেখছে, আর ব্ল্যাক প্যান্থারের বিগ্রেডের টপ পজিশনে রসিক ও সাহসী ওকিয়াসহ কয়েকজন নারী বেশ জনপ্রিয়। ব্ল্যাক উইডোর পাশাপাশি স্কারলেট ইউচ ও নবীন মানটিসের ভূমিকা নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে সিনেমা জুড়ে।
ইনফিনিটি ওয়ারের শেষের দিকে এক এক করে মিলিয়ে যাওয়া সুপার হিরো এবং থানোসের হঠাৎ উদাস হয়ে যাবার রহস্য মাথায় নিয়ে দর্শককে বাড়ি ফিরতে হবে। তবে সহসা মিলছে না সেসব উত্তর, মারভেলের পরবর্তী সিনেমা ‘অ্যান্টম্যান এন্ড ওয়াসপ’, ‘ক্যাপ্টেন মারভেল’ এবং এরপরে ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’ এ গিয়ে হয়তো মিলবে কিছু উত্তর। তবে বিভিন্ন সিনে-ম্যাগাজিন বলছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স ফোর’ পুরোপুরি ইনফিটি ওয়ারের ধারাবাহিকতায় তৈরি হচ্ছে। সেপর্যন্ত পুরাতন ও নতুন মারভেল ফ্যানরা পুরাতন সিনেমাগুলো দেখে দেখে রহস্য সমাধানের চেষ্টা করতেই পারেন।







