রোহিঙ্গা ইস্যুতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে এর প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে থাই সরকার ২৯ মে বৈঠক অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার অনুরোধ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৫টি দেশ ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে মিয়ানমারের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।
রোববার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাইয়ুট চান-ও-চানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বান কি মুন। ২৯ মের বৈঠক রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন মহাসচিব।
মুন-প্রাইয়ুট কথপোকথনের কথা নিশ্চিত করেন থাই সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ওয়ারেসন সুকান্তাপাতিপাক।
টেলিফোনে মুন বলেন, রোহিঙ্গা অভিবাসীরা অবশ্যই মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার পাওয়ার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের জন্য একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বানাতে থাই সরকারের প্রতি আহবান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা অভিবাসী সমস্যা নিয়ে বান কি মুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রাইয়ুট আরও বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি সমাধানের ব্যাপারে এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে। এই সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।
মিয়ানমারের জাতিগত বৈষম্য ও দরিদ্রতা অভিবাসনকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘ এ ব্যাপারে দ্রুত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে বলে জানান জেনারেল ওয়ারেসেন। সেসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও জীবনমানের উন্নতিতে কাজ করার আহবানও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব
থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বৈঠকে উদ্বিগ্ন দেশগুলো তাদের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরতে পারবে। বৈঠকটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এশিয়ার দেশগুলোকে একত্রিত করবে এবং দায়বদ্ধতা বাড়াবে বলেও আশা তার।
কিন্তু মিয়ানমার বৈঠকে অংশ না নিলে সমস্যার সমাধান হবে কি না এ বিষয়ে আশংকা অনেকের।
এরকম অবস্থায় মিয়ানমারের ওপর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়েছেন বারাক ওবামা। পাঁচদিন পর এ সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
মালয়েশিয়ার অপারগতা
সমস্যা সমাধানে নানামুখি উদ্যোগের মধ্যে অভিবাসীদের বোঝা বহনে অপারগতা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া।
প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজ্জাক বলেছেন, গভীর সমুদ্রে যারা ভাসছে তাদের জন্য গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু আর কোনো অভিবাসীর বোঝা বহনে আমরা সক্ষম নই।







