অর্থপাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাসের
রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা আপিলের রায় ঘোষণা
করা হবে অাজ বৃহস্পতিবার।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে.বি.এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে হাইকোর্ট বেঞ্চের বৃহস্পতিবারের কার্যসূচিতে মামলাটি তিন নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
এদিন মামলাটিতে সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের করা আপিলেরও রায় ঘোষণা হবে। বিচারিক আদালতের সাজার রায় বাতিলের আবেদন করেন মামুন।
নিম্ন আদালতে তারেকের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল এবং দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মামুনের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৬ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন হাইকোর্ট।
তারেককে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আপিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করে আসামী তারেককে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ ও আপিলের বিষয়ে অবহিত করতে গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি দু’টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। চার্জশিটে থাকা দুই ঠিকানায় (লন্ডন ও ঢাকা) সমনের নোটিশও পাঠান বিচারিক আদালত।
মামলাটি দায়ের থেকে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। তিনি যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশনস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।
২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ‘বিভিন্ন পন্থায়’ ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়, যার মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়।
এছাড়াও পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা আদালত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আপিল করে দুদক।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তারেক রহমান পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন।








