অভিভাবকের কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা না পাল্টালে, নতুন প্রজন্মের কাছে সততা ও নৈতিকতার অাশা অবান্তর। যেখানে অামরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ক্রয় করি বা ক্রয় করার অর্থ জোগাই সন্তানের সাফল্যের অাশায়, সে সমাজে সাফল্যের স্বার্থান্ধ সংজ্ঞায়ন থেকে সন্তান কী করে মুক্ত হবে?
আমাদের মানসিকতা না পাল্টালে শিক্ষার মতো পণ্য হয়তো চাতুর্য বাড়াবে, কিন্তু অন্ধকার তাড়াতে পারবে না। কেননা অভিভাবকরা খুব সহজে সন্তানের প্রবঞ্চনার ভবিষ্যত গড়তে প্রশ্নপত্র ক্রয় করি বলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। চাহিদা থাকলে যোগান অাসবেই, এটা তো মুক্তবাজার অর্থনীতির বহুল প্রচলিত একটি তত্ত্ব।
অামরা জিপিএ-৫ প্রজন্ম চাই বলে সরকার সব বিষয়ে এ প্লাস স্বান্তনা অার প্রতারণামূলক শিক্ষাব্যবস্থার যোগন দেয়। যে দেশে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হয়, সে দেশে সমাজ পাল্টাবে; এমন অাশা করা তো বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা।
শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুর দিনগুলিতেই ভয়াল চৌর্যবৃত্তির সঙ্গে আমরা তাদের সম্পৃক্ত করে দেই। অথচ সেই শিশুটির অভিভাবকরাই সমাজ অার সন্তানকেও নৈতিকতার তালিম দেন।
অামার একমাত্র বোন এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটিতেই ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু এবারের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সে খবরের লিঙ্কটি অামায় পাঠালে অামি কোন উত্তর দিতে পারিনি।এই উত্তর দিতে না পারার অক্ষমতা তৈরি করে দেয় রাষ্ট্র। পরে সে জাহাঙ্গীরনগরেই ভর্তি হয়। সেখানেও ভর্তিতে বিলম্ব সংক্রান্ত জটিলতার সৃষ্টি হয়।
দেশে একই সমান্তরালে তিন রকমের শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান। বিশ্বজুড়ে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব পরিমণ্ডলের উৎকর্ষ অার বিকাশের ধারা নিজ ভাষায় চর্চার প্রয়াসে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে এ অবধি বাংলা ভাষায় প্রকাশনার সংস্থা মাত্র সত্তরটির মতো।
এছাড়া এরশাদের শাসন অামলেও দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু ছিল। কলেজগুলোতেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো। অথচ অামাদের গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর অামলে দেশে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয় না।
এভাবেই ন্যায্য দাবি বা অধিকার অাদায়ের সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে রাজনীতি বিমুখ অাত্মকেন্দ্রীক অার বৈপরীত্যময়তার দ্বন্দের পথে অামাদের শাসকরা প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব কারণেই দেশে নাগরিক সংকটে অাজ অার কোন অান্দোলন গড়ে উঠে না।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







