বঙ্গোপসাগর এলাকা দিয়ে মানবপাচার ও অভিবাসী সংকট এবং সাগরে ভাসা অভিবাসীদের ভাগ্য নির্ধারণ বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৭টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হচ্ছে আজ শুক্রবার। থাইল্যান্ডের আহ্বানে ব্যাংককে বসছে ওই বৈঠক । সাগরে মানবিক বিপর্যয় ও অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে উপকূলীয় দেশগুলোর অনীহার মধ্যেই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওই বৈঠক।
নানা চ্যালেঞ্জের এই বৈঠকে অভিবাসীদের জন্য সহায়তা তহবিলের ঘোষণা আসতে পারে। আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাপ আসতে পারে মিয়ানমারের উপর। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ব সম্প্রাদায়ের নজর থাকছে এই বৈঠকের দিকে।
বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৭ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনামসহ বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন, ড্রাগস এনাড ক্রাইম অফিস সহ বেশ কিছু সংস্থার পর্যবেক্ষককেও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠক আহ্বানকারী দেশ থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকে বর্তমান বিশ্বের সবথেকে ভয়াবহ অভিবাসী সমস্যা ও মানবপাচার সমাধান নিয়ে আলাচনা করা হবে।
বৈঠকে সহায়ক ১০টি প্রস্তাব পেশ করবে ইউ এন এইচ সি আর, আই ও এম এবং ইউ এন ও ডি সি। প্রথমে রাজি না হলেও প্রতিনিধি পাঠাবে মিয়ানমারও।
সহায়তা তহবিলে ঘোষণার আগেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য বৃহস্পতিবারই ইন্দোনেশিয়াকে ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশ কাতার।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া ও থাইল্যান্ড সাগরে ভাসাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে রাজি হলেও তাদের অভিবাসী হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ তারা। আর সাগরেভাসাদের আশ্রয় দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র কিছু রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আসছে মিয়ানমার।
এ বৈঠকে সাগরেভাসাদের জীবন বাঁচাতে উপকূলীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরে অবাধে প্রবেশ ও তাদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ)। আর মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচি’কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামা।
গত কয়েক সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ৩ হাজারের বেশ অভিবাসী ভিড়তে পারলেও ত্রাণ সংস্থাগুলোর ধারণ এখনও বহুসংখ্যক অভিবাসী সাগরে ভাসছে।






