আর্জেন্টিনা কিংবা বার্সেলোনা, কোন দলেই তার চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি। ৩৩ বছর বয়সেও তিনি অপরিহার্য। তবে বয়সটা তো আর থেমে থাকবে না। দুবছর পর পরিস্থিতিটা কোথায় যেয়ে দাঁড়াতে পারে সেটা আঁচ করতে পারছেন হাভিয়ের মাশ্চেরানো। নিজের জন্য একটা লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপ। এরপর বুটজোড়া তুলে রাখবেন।
বিদায়ের কথা জানাতে যেয়ে বাস্তববাদীই থেকেছেন মাশ্চেরানো। বোঝাই যাচ্ছে অনেক ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিনার হয়ে আমার চক্র পূরণ হবে রাশিয়াতে। সেখানেই আমি ক্যারিয়ার থামাতে চাই।’
অবসরের ঘোষণাটা আচমকা এলেও আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পারে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ শিরোপা খরা ঘোচাতে রাশিয়ার মহারণে মেসির পাশে দলের অন্যতম পরীক্ষিত সৈনিককে তারা পাচ্ছেই। আলবিসেলেস্তাদের জার্সিতে ১৩৯ ম্যাচ খেলে ফেলা মানুষটির অভিজ্ঞতা তো তাদের ভালোমতোই প্রয়োজন।
আর মাত্র ৪টি ম্যাচ খেললেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে হাভিয়ের জানেত্তির সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি হবে মাশ্চেরানোর। লম্বা সময় রক্ষণ আর মাঝমাঠ সামলে চলেছেন। যদিও শিরোপার খাতাটা আর্জেন্টিনা-ফুটবলের মতই শূন্য। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে রানার্সআপ; ২০০৪, ২০০৫, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকায় রানার্সআপ হওয়ার ভাগ্য সঙ্গী তার। আবার ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সোনা জেতার সুখস্মৃতিও আছে।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই না করলে সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনেকেই অবসরে যেতে পারেন। এমন গুঞ্জন ছিল জোরেশোরেই। মাশ্চেরানোও হয়ত সিদ্ধান্তটা নিয়ে রেখেছিলেন সেই অর্থেই। জটিল সমীকরণ আর শেষ ম্যাচের মেসি-ম্যাজিকে বাছাইপর্বের বাধা উতরানো গেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এর টিকিট কাটার দুদিন পর হয়ত লক্ষ্যটা কেবল বিস্তৃত করলেন।







