ভারতের উত্তর প্রদেশের বান্দায় দুই রুমের একটি জীর্ণ বাসায় বসবাস নব্বইয়োর্ধ যমুনা প্রাসাদের। পলেস্তারা খসে পড়া হতদরিদ্র পরিবেশে ভাড়া বাড়িতে থাকা এই বৃদ্ধটি চারবার এমএলএ এবং দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আজীবন দরিদ্র মানুষদের অধিকার আদায়ে কাজ করা যমুনা প্রাসাদের পরিচিত-স্বজনদের আক্ষেপ, ‘অনেক কিছুই তো করতে পারতে’। যার জবাব তার কাছে একটাই, ‘হাসি’। বেহাল দশায় থাকলেও কিছু করতে না পারার ‘কোন অনুশোচনা নেই’ তার।
দরিদ্র মানুষদের পক্ষে নিরন্তর সংগ্রামের জন্য তাকে ‘বসু’ পদবী দেয়া হয়, যা তিনি খুব গর্বের সাথেই বলেন। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু যে তার আদর্শ। বান্দার খিন্নি নাকায় জন্ম যমুনার। পিতা নগর পালিকার জুনিয়র ক্লার্ক ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৬২ ও ‘৬৭-তে। ১৯৬৯-এ বিধান সভা নির্বাচনও করেন। বন্ধুরাই তার নির্বাচনে লড়াইয়ে টাকা জোগাড় করে দেয়। কিন্তু সবগুলোতেই পরাজিত হন যমুনা প্রাসাদ।
তবে ১৯৭৪ এ বান্দা সদর থেকে এমএলএ হন তিনি এবং ১৯৭৭ সালে বিধান সভা নির্বাচনেও জয় পান। পরে গ্রাম উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৮৯- তে মুলায়েম সিং যাদবের ক্যাবিনেটে পশু ও মৎস পালন বিষয়ক মন্ত্রী হন যমুনা প্রাসাদ।
রাজনৈতিক পথচলার সেই উত্তুঙ্গ জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সেসময় আমাদের কোন গাড়ি ছিলো না, সাইকেল বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে হতো। আমার বন্ধুরা দেয়ালে দেয়ালে রাজনৈতিক বার্তা-স্লোগান লিখতো এবং জনসভার আয়োজন করতো। জনতাই আমাদের খাবার-পানি দিতো, সাথে অনুদান দিতো ১ আনা, ২ আনা, ৪ আনা। ১ রুপি তখন অনেক টাকা।”
উত্তাল সেই সময়গুলো পেরিয়ে এসে এখন বলতে গেলে একেবারেই নিঃস্ব-রিক্ত এই রাজনীতিক। যেই দরিদ্রক্লিষ্ট বাড়িতে থাকেন, তাও নিজের নয়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এতে ভাড়া থাকেন তিনি, যার ভাড়া পরিশোধ করেন পেনশনের টাকায়। অনেকটাই দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তার মনোবল ভাঙ্গেনি একটুও। “মানুষজন, এমনকি আমার পরিবারের সদস্যরাও বলে যে, আমি এইটা বা ওইটা করতে পারতাম। আমি শুধু হাসি, আমার কোন অনুশোচনা নেই।”
৯২ বছর বয়সে এসে এখন কথা শুনতেও সমস্যা হয় তার। তাই কেউ কথা বলার সময় খুব কাছে ডেকে নেন। কিন্তু শরীরে বয়সের দূর্বলতা-জড়া বাসা বাধলেও এখনও মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, অবসর নেননি রাজনীতি থেকেও। বলেন, “বন্ধুরা আমাকে এখনও রাজনীতি থেকে অবসর নিতে দেয়নি। এখনও আমি খুব ব্যস্ত সময়ই কাটাই।” বলে হাসেন তিনি।
চার দশক ধরে যমুনার বন্ধু ও প্রতিবেশী রাম সানেহি সিং। তিনি দুঃখ করে বলেন, “সে তার নিজের জন্য একটা ছোট বাড়িও করতে পারলো না। ১৯৫৫ সালে বোনের বিয়ের জন্য খিন্নি নাকায় তার পৈত্রিক বাড়িটিও বিক্রি করে দেন ১ হাজার রুপিতে। সে কখনো নিজের কথা ভাবে না। সে শুধু মানুষদের কথা ভাবে।”
অনেক আগেই তিনি তার স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তিন ছেলের সবাই আলাদা থাকেন। তার তেমন খোঁজখবরও নেয় না বলে জানান যমুনা প্রাসাদ।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস








