ভারত ৮, বাংলাদেশ ০! ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টিতে মুখোমুখি দেখায় জয় নেই বাংলাদেশের। তবুও এশিয়ার এ দুটি দেশ মাঠে নামলে বেড়ে যায় ম্যাচের গুরুত্ব! দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচ ঘিরেও উত্তেজনা তুঙ্গে। রোববার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে প্রতিবেশী দুদেশের ক্রিকেট লড়াই।
বেশকিছু ঘটনা তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। দিল্লিতে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে আসছে এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট ম্যাচ হওয়ার খবর।
সেখানকার পরিবেশ খেলোয়াড়-কোচ, দর্শকদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে সেটি যেমন দেখার, বাংলাদেশ তাদের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি কীভাবে পুষিয়ে নেয় সেটিও দেখার আছে। একবছর পূর্ণ আর একবছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ছাড়া রোববারই প্রথম খেলতে নামছে টিম টাইগার্স।
দিল্লিতে দূষণের মাঝেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সবাই সুস্থ আছেন, ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দেয়া এ তথ্য স্বস্তি যোগালেও ম্যাচের দিন সফরকারী দলের উপর সেটির প্রভাব কেমন থাকে, তা নিয়ে ভাবনার জায়গা থাকছেই।
বাংলাদেশের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ থাকছে ভারত সফরে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষই। রঙিন পোশাকে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে গত চার-পাঁচ বছরে বাংলাদেশের তীরে এতে তরী ডোবার ঘটনা এতই ঘটেছে যে, হতাশার পাহাড় জমেছে টাইগার খেলোয়াড়-দর্শকদের মনে।

বেঙ্গালুরুতে জয়ের খুব কাছে গিয়ে হারের স্মৃতি দুঃসহ যন্ত্রণা দিয়েছে বহুদিন। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের কথা চাইলেও ভুলতে পারবে না বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে যখন আরেকবার টি-টুয়েন্টির লড়াই, তখন স্বাভাবিকভাবেই আসছে সাড়ে তিন বছর আগের ওই হারের প্রসঙ্গ।
৩ বলে ২ রান করতে না পারায় এদিন সহজাতভাবেই দুঃখবোধ এলো মাহমুদউল্লাহর মনে, ‘হ্যাঁ, ভারতের সঙ্গে আমরা খুব কাছে গিয়ে কিছু ম্যাচ হেরেছি। সামনে সুযোগ আসলে আর ভুল করতে চাই না।’
২০২০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে ভারতীয় দল চালাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সুযোগ দেয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণদের। খেলছেন না নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়ার মতো খেলোয়াড়। বাংলাদেশ দলে নেই সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।
বিশ্বকাপ থেকেই ফর্মে ছিলেন না তামিম। এ বাঁহাতির জায়গায় সৌম্য-লিটনদের ব্যাটের দিক তাকিয়ে থাকা যাবে। কিন্তু সাকিবের অভাব কীভাবে পুষিয়ে নেবে বাংলাদেশ সে উত্তর নেই কারো কাছেই।

সাকিবকে ছাড়া ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানো কতটা কঠিন হতে পারে সেকথা মাহমুদউল্লাহ বলেছেন অকপটেই, ‘কম্বিনেশনের দিক থেকে যদি চিন্তা করি সাকিব না থাকায় আগেও যেটা হয়েছে সমস্যা হয়। একজন টপক্লাস অলরাউন্ডারের মিস তো অবশ্যই টিমের জন্য বড় সমস্যা। আমার মনে হয় ওই জায়গা থেকে কম্বিনেশনে বাড়তি একজন বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান নিতে হবে।’
ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ কম পায় বাংলাদেশ। আইসিসি ও এসিসি’র ইভেন্ট ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার ব্যাপারে ভারতের প্রবল অনীহা। সেই প্রেক্ষাপটে প্রথমবার যখন ভারতের বিপক্ষে দুই সংস্করণের (টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট) সিরিজ খেলার সুযোগ এলো, তখনই কিনা সেরা দলটা পেল না বাংলাদেশ!
এমন দল নিয়েও অবশ্য ভারতকে হারানোর মনচ্ছবি দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘ঘরের মাটিতে ভারত অনেক শক্তিশালী। হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার অনেককিছুই আছে। ভালো ক্রিকেট খেলে যেন জিততে পারি সেটিই আমরা ভাবছি।’
সাকিব ইনজুরিতে পড়লেই বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান মাহমুদউল্লাহ। ‘ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক’ ট্যাগ লেগে গেছে তার নামের পাশে। তবে এই দায়িত্বে সেভাবে সফল হতে পারেননি এখন অবধি। সাকিব ফেরার আগ পর্যন্ত জায়গাটা ধরে রাখতে হলে ভারতের বিপক্ষে ভালো কিছুর বিকল্প নেই। মাহমুদউল্লাহ হয়তো সামনেই তাকাবেন!







