যদি প্রশ্ন হয়, জুন মাসে বাংলাদেশে কি কি আসে? উত্তর হবে: কদমফুল আসে, নদীতে নতুন পানি আসে, বাজারে আম-কাঁঠাল-জাম আসে, নতুন বাজেট আসে, বর্ষা আসে, ঝড়-তুফান বৃষ্টিও আসে। কিন্তু কেউ টেষ্ট ক্রিকেট খেলতে আসে না!
তবে হ্যাঁ, এবারের জুন মাসটা ব্যাতিক্রম। ভারতীয় ক্রিকেট দল আসলো টেস্ট সিরিজ খেলতে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের ১৫ বছরের মধ্যে এই ঘটনা প্রথম।
কিন্তু যা হওয়ার তাই হলো। ১০ থেকে ১৪ জুন ফতুল্লায় একাই রাজত্ব করলো বৃষ্টি। খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে টস হওয়ার পর থেকেই আসলে শুরু হয়েছিলো আকাশের চোখ রাঙ্গানি। ৫ দিনের সব দিনই টেস্ট খেলতে বাধা দিলো বৃষ্টি। টেস্টের দ্বিতীয় দিনেতো মাঠেই যায়নি দুই দল। আর গিয়ে করতোই বা কি তারা।
পিচ কাভার নিয়ে গ্রাউন্ডসম্যানদের টানাটনি ছিলো এই টেস্টের সবচেয়ে কমন দৃশ্য। কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাপ ছিলো দেখার মতো। আগে না বুঝলেও এখন তারা বুঝেছেন জুন মাসে টেস্ট খেলতে কতো ঝক্কি পোহাতে হয়। কিন্তু কেনো তারা ‘আগে বুঝলেন না’ এটা কারও বোধগম্য হচ্ছে না।
এই রাজি হওয়া না হওয়া নিয়ে ভারতীয় এক সাংবাদিক পোষ্টম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন করেছিলেন ভিরাট কোহলিকে। উত্তর দিতে গিয়ে কোহলি শুরু করেছিলেন অ্যাটাকিং মুডে। পরে কৌশলি হয়ে উত্তর শেষ করেছেন।
শুরুতে ভিরাট বললেন, এটা আপনি বরং তাদের জিগগেশ করেন যারা আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এরপর ভিরাট কোহলি শান্ত হয়ে গেলেন, কুটনৈতিকভাবে উত্তর শেষ করলেন।
ভিরাট বলেন: দেখেন, আপনি কখনোই আসলে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আর আবহাওয়ার কথা মাথায় নিয়ে ট্যুর শিডিউল করাও কঠিন। একটা টেস্ট ম্যাচ ধুয়ে গেছে তাতে কিছুটা হতাশাতো আছেই। সামনের তিনটা ওয়ানডেও যে বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে না এটার কি গ্যারান্টি আছে?
‘আমার এবং আমাদের কাজ ভারতের পক্ষে ক্রিকেট খেলা। কোথায়, কার সঙ্গে, কোন মাসে কোন আবহাওয়ায় খেলতে হবে এটা ঠিক করে বোর্ড। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব কন্ডিশনেই আপনাকে খেলতে হবে,’ যোগ করলেন ভিরাট কোহলি।
গত বর্ষায় ভারত বাংলাদেশে এসে শুধু ওয়ানডে খেলেছিলো। এবার জুন মাসের টেস্টে ক্ষতিটা ভারতেরই হলো বেশি। বৃষ্টিতে প্রায় ভেসে যাওয়া টেস্ট ড্র হওয়ায় র্যাংকিংয়ে তিন থেকে চারে চলে গেছে ভারত।
জুন মাসের আয়োজন নিয়ে কথা হচ্ছিলো দৈনিক কালের কন্ঠের উপ-সম্পাদক মোস্তফা মামুনের সঙ্গে। তিনি মনে করেন, এই মাসে বাংলাদেশে ক্রিকেটই হওয়া উচিত না। ফতুল্লা টেস্ট আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের কোনো কৃতিত্ব দিতেও রাজি নন তিনি।
মোস্তফা মামুন বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব নাগরিকই জানেন এই মাসে বা এই সময়ে কি পরিমাণ বৃষ্টি হয়। আপনি এসময় ক্রিকেট আয়োজন করতে রাজি হয়েছেন আপনাকে ঝামেলা পোহাতে হবেই।
ভারতের মতো ‘হাই-প্রোফাইল’ একটা দলের সঙ্গে টেস্ট খেলার একটা সুযোগওতো এটা। এমন প্রশ্নে মোস্তফা মামুন বলেন, হ্যাঁ সারা বছরের অন্য যে কোনো সময়ে তা আয়োজন করা যেতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড তা করতে রাজি নয়। এটা তাদের এক ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ।
সারা বছর খেলে এই সময়টাতে একটু অবসর পায় টিম-ইন্ডিয়া আর এটাই বরাদ্দ করা হয় বাংলাদেশের জন্য। আমরাও সেটাতে রাজি হই। ভারতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ খেলতে পারলে অনেক উপকার বাংলাদেশের। কিন্তু তা যেনো একটা সঠিক সময়ে হয়। যখন ক্রিকেটটা মাঠে গড়াতে পারে।
২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়েই বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিলো টেস্ট ক্রিকেটে। এ পর্যন্ত ৯১টি টেস্ট ম্যাচ খেললেও ভারতের বিপক্ষে ১৫ বছরে খেলা হয়েছে মাত্র ৮টি টেস্ট। যার সবগুলোই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। ভারতের আমন্ত্রণে ভারতে গিয়ে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার স্বপ্ন এখনও অধরা টাইগারদের। আগামী বছর সেটা পূরণ হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে বিসিবি।







