খুব শিগগিরই মাঠে ফেরা হচ্ছে না পেসার তাসকিন আহমেদের। সাইড স্টেইন ইনজুরির কারণে বেশ খানিকটা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে এই ডান হাতি ফাস্ট বোলারকে। পেস বোলারদের ব্যবহার অতিরিক্ত হলে এ ধরণের ঘনঘন ইনজুরির সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী।
বেশ ভোগান্তি, অপেক্ষা আর শক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভারতে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে বেঙ্গালুরুর মাঠে নামার আগে অন্তত এতটা ভাবতে পারেন নি যে পরের দিনই দেশে ফিরতে হবে। যদিও বাস্তবে তাই হয়েছে। ৫ ওভার বোলিং করতেই আবার সেই সাইড স্টেইনে চোট। মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত ‘দেশে ফিরছেন তাসকিন’। এবারের চোটটা আরও গুরুতর। মাস খানেকের বেশি সময় লাগতে পারে তাসকিনের মাঠে ফিরতে।
ক্রিকেটে ইনজুরি সমস্যাটা নতুন কিছু নয়। যারা ক্রিকেট খেলছেন, তাদের মধ্যে সবাই-ই কম-বেশি ইনজুরিতে পড়েন। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, পেসার সংখ্যা এখানে এতোটা বেশি কেন? তাদের তা কাটিয়ে উঠতেই বা এতটা বেশি সময় কেনো লাগে? পুরোপুরি ফিট বললেও সেটার স্থায়িত্ব কম হয় কেনো? এসব নানাবিধ প্রশ্নের বিস্তারিত তথ্যটা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী।
ডাক্তার দেবাশীষ জানান, সাইড স্টেইন মূলত পাঁজরের ব্যথা। পেসার যে হাতে বল করেন তার বিপরীত দিকে এই সমস্যা দেখা দেয়। বল জোরে ডেলিভারী দেয়ার জন্য পাঁজরের নিচের মাংসপিন্ডগুলোতে চাপ পড়ে। একবার সাইড স্টেইনের সমস্যা হলে তা বারবার হয়। এমনকি এ থেকে পরিত্রাণের সময়টাও বেশ দীর্ঘ।
টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এই একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ বার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। অন্য পেসাররাও যে একেবারেই এরমধ্যে পড়ছেন না, তা নয়। তবে মাশরাফির পথেই হাঁটছেন তাসকিন! অনেকেই তাই মনে করছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বেশিদিনের না হলেও এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার সাইড স্টেইন ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। গেলবার তো মাঠে ফিরতে অপেক্ষাই শেষ হচ্ছিল না তাসকিনের। ধাক্কা কাটিয়ে যতটুকু বা উঠে দাঁড়ালেন, তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
তাসকিনকে নিয়ে ডাক্তার দেবাশীষ জানান, ছোটবেলা থেকে ফাস্ট বোলিংয়ের কারণে তাসকিনের মাংসপেশীগুলো কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই খুব বেশি চাপ তিনি পারেন না।
বিসিবি’র ফিজিও জানিয়েছেন, শিগগিরই নতুন পেসারদের নিয়ে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি’র। এ থেকে বেরিয়ে আসা পেসাররা জাতীয় দলে সুযোগ পেলে পুরোনোদের ওপর কম চাপ পড়বে।





