জিন প্রকৌশল ব্যবহার করে চীনের বিজ্ঞানীরা জন্ম দিয়েছেন বিশেষ ধরণের অটিজমের শিকার বানর। মানুষের জন্য অটিজম চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নে এসব অটিস্টিক বানরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
অটিজম হলো যে কোনো ধরণের জন্মগত বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আচরণগত সমস্যা, যা কিছু বিশেষ জিনগত ত্রুটির কারণে হয়। কিন্তু ত্রুটিগুলো কেনো হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানাই রয়ে গেছে।
সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিকাল সায়েন্সেস’র স্নায়ুবিদ জিলং কিউ জানিয়েছেন, তিনি ও তার গবেষণাদল বিশেষ ধরণের যেসব জিনগত ত্রুটির কারণে মানবশিশুর মধ্যে অটিজম এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়, সেসব ত্রুটিসহ এক ডজনেরও বেশি বানরশিশুর জন্ম দিয়েছেন।
এই বানরশিশুগুলোর মধ্যে আচরণগত বেশকিছু সমস্যা দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চক্রাকারে ঘোরা, অন্য বানরদের সঙ্গে কম মেশা এবং কেউ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলে অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়া। এছাড়াও জিনগত পরিবর্তন আনা দু’টি বানর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বানরগুলোর মধ্যে যেসব অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে সেসব অটিজমে আক্রান্ত মানবশিশুদের মধ্যেও দেখা যায়।
এর আগে ইঁদুরের ওপরও একই পরীক্ষা চালান কিউ ও তার সহকর্মীরা। কিন্তু ইঁদুর এবং মানুষের মস্তিষ্কের ধরণ ভিন্ন হওয়ায় কয়েক বছরের গবেষণায়ও আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাননি তারা।
মানুষের সঙ্গে বানরের মস্তিষ্কের মিল থাকায় এবার বানরের ওপর গবেষণা করে অবশেষে বিজ্ঞানীরা আশার আলো দেখতে পান।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এ গবেষণাটির মধ্য দিয়ে মানবদেহে অটিজমের মতো জিনগত ত্রুটির কারণ এবং এর চিকিৎসার রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে।







