অস্ট্রেলিয়া সফরে শুধু হারানোর গান শুনছে নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে সুপার লিগের শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে হার, অজিদের কাছে চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজ খোয়ানো, শেষে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হাতছাড়া। কেন উইলিয়ামসনের দল খুইয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি পয়েন্টও।
কেয়ার্নসের ক্যাজালি স্টেডিয়ামে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বোলিংয়ে দুর্দান্ত থাকলেও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। অস্ট্রেলিয়ার ছোড়া ১৯৫ রানের লক্ষ্যে সব উইকেট হারিয়ে তারা তুলতে পেরেছে সবে ৮২ রান। অ্যাডাম জাম্পার ঘূর্ণি আর মিচেল স্টার্কের অলরাউন্ড পারফর্মে সফরকারীরা হেরেছে ১১৩ রানের বড় ব্যবধানে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই খুইয়েছে সিরিজ।
তিন ম্যাচের সিরিজে বৃহস্পতিবার জয়ের বিকল্প ছিল না কিউইদের। কাজটা ঠিকই এগিয়ে রেখেছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট-ম্যাট হেনরি। টস হেরে ব্যাটিং নেমে তাদের পেসারদের তোপে পড়ে স্বাগতিক দল। স্কোরবোর্ডে ২৬ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে শুরুর ৪ উইকেট।
যা একটু ব্যতিক্রম ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। ৯৪ বলে ৬১ রান করে তিনি ফেরেন দলের রান যখন ১১৭। পরের গল্পটা জাম্পা ও স্টার্কের। বোলিংয়ে কিউইদের ধসিয়ে দেয়ার আগে দুজনে গড়েন দারুণ এক জুটি। দলকে ১৯৫ রানের সংগ্রহ এনে দিতে জাম্পা খেলেন ১৬ রানের ইনিংস।
শেষ উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে জশ হ্যাজেলউড করেন ১৬ বলে ২৩ রান। ৪৫ বলে ৩৮ রান করে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন পেসার স্টার্ক।
কিউইদের হয়ে বোলিংয়ে কাজটা এগিয়ে রাখেন বোল্ট। ১০ ওভারে ৩৮ রান খরচায় চারটি উইকেট তুলে নেন এ পেসার। তিনটি উইকেট নেন ম্যাট হেনরি। ৭ ওভারে ২২ রান খরচায় অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান স্যান্টেনার। সফরকারী বোলারদের তোপে ব্যর্থ হয়েছেন ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, লাবুশেন হয়ে মাঝের দিকে থাকা ক্যারি, ম্যাক্সওয়েলরা।
অল্প পুঁজিতে শুরুটা দারুণ আনেন ব্যাটিংয়ে দাপট দেখানো স্টার্ক। ওপেনারের পর ৭ ওভারে ১২ রান খরচায় মিচেল ব্রেসওয়েলকেও সাজঘরে ফেরান তিনি। স্টার্কের দিনে লেগ ঘূর্ণিতে কিউই বধ করেছেন অ্যাডাম জাম্পা। ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচায় পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে রান পাননি কিউই দুই ওপেনার। দুই অঙ্কের সংখ্যা ছুঁতে পেরেছেন মোটে চারজন। ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৭ রান এনেছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন আট নম্বরে নামা স্পিনার মিচেল স্যান্টেনার। নিউজিল্যান্ড সব উইকেট হারায় ৮২ রানে, সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে সিরিজ নির্ধারণ করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
টানা দুই হারে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ১১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। তাদের থেকে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ড। সুপার লিগে ১১০ পয়েন্ট নিয়ে চার ও পাঁচ নম্বরে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
কেয়ার্নসের এ মাঠেই ১১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে দুদল। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ১০ পয়েন্ট ছাপিয়ে কিউইরা সেদিন লড়তে চাইবে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে।







