চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার জন্য নৌকার মনোনয়ন পাচ্ছেন প্রায় ৭০ জন

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯ নভেম্বর) উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা প্রক্রিয়ার শেষ কয়েকদিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে চাপা উত্তেজনা।

কে মনোনয়ন পাচ্ছেন আর কে পাচ্ছেন না এটা নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত নির্বাচনী এলাকাগুলোর সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও।

প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকাতেই আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। শেষ সপ্তাহ জুড়ে এক পক্ষ যদি কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার কথা বলে মিষ্টি বিতরণ করে, পরক্ষণেই মনোনয়ন নিশ্চিতে বিজয় মিছিল করেছে অন্য পক্ষ।

নিজ দলে এমন পাল্টাপাল্টি সামাল দিতে আজই (রোববার) আওয়ামী লীগ ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করবে। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার বলছিলেন, রোববারই মনোনয়ন ইস্যুতে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। অবশ্য পরক্ষণে কিছুটা আকর্ষণ ধরে রাখেন তিনি। বলেন: কাল (রোববার) সন্ধ্যা না হলেও পরশু (সোমবার) সকালে মনোনয়নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

তবে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামীকাল নয় আজই শেষ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর। ঘোষণা করা হবে ৩০০ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীর নাম।

৩০০ কেন? আওয়ামী লীগ তো একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দল, জাতীয় পার্টি (জাপা), যুক্তফ্রন্টসহ আরও কিছু ইসলামী দল ও পৃথক জোটকে সঙ্গে নিয়ে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাহলে শরিকদের জন্য আসন ছাড়ছে না ক্ষমতাসীনরা?

এর ব্যাখায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে: আমরা দশম সংসদীয় আসনের ধারাবাহিকতায় ৩০০ আসনেই মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীকালে জোট ও নির্বাচনী শরিকদের জন্য যে আসনগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে সেগুলো থেকে মনোনয়ন চিঠি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

কীভাবে সম্পন্ন হবে এ প্রক্রিয়া? এ বিষয়ে দলটির দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে: মনোনয়ন চিঠি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০০ আসনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের কাছ থেকেই প্রত্যাহারপত্র নিয়ে রাখা হবে। শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসন গুলোতে ওই প্রত্যাহারপত্র গ্রহণ করে নেওয়া হবে।

সেই হিসেবে খুব অল্প সময়ের জন্য উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন ৬৫ থেকে ৭০ জন। আওয়ামী লীগ চাইছে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে শরিকদের আসন বণ্টনসহ মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে। সেটা সম্ভব না হলে কোনভাবেই ২৯ নভেম্বর পার করতে চাইছেন না ক্ষমতাসীনরা।

Advertisement

তাই শরিকদের জন্য প্রতিশ্রুত ৬৫ থেকে ৭০টি আসনে যারা মনোনয়ন পাচ্ছে তারা সর্বোচ্চ ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা নৌকার প্রার্থী পরিচয় পাবেন। তবে শেষ সময়ে ৭০-এ শরিকদের শান্ত রাখার অ্যাসাইনমন্টে কাদের কতটুকু সফল হবেন সেটা দেখার অপেক্ষায়। যদিও তিনি বারবার বলছেন, দর কষাকষি আছে, তবে সেটা আওয়ামী লীগের সাধ্যের মধ্যে।আওয়ামী লীগ-মনোনয়ন-মনোনয়নপত্র-নির্দেশনা মানছে না

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, জাতীয় পার্টি’র (জাপা) জন্য ৩৬ আসনে ছাড় দেবে আওয়ামী লীগ। এরপর রয়েছে ১৪ দল, যুক্তফ্রন্ট, নজমুল হুদা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)সহ ইসলামী কয়েকটি দল। সকলের প্রত্যাশা পূরণে ৩৪ আসন কতটুকু পুঁজি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের জন্য সেটা এখন দেখার বিষয়। সব ঠিক থাকলে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটে দেখা যেতে পারে ১২৯টির মতো রাজনৈতিক দল।

দলীয় সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত শরিকদের জন্য ৬৫-৭০ আসনে ‘রফা’ অ্যাসাইনমেন্টে ব্যর্থ হলে শেষ সময়ে শরিকদের জন্য আরও ১০টির মতো আসন ছাড়তে হতে পারে আওয়ামী লীগের। সেক্ষেত্রে পেয়েও না পাওয়ার বেদনায় পুড়তে হবে আরও জন-দশেককে।

একে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখতে নারাজ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা বলছেন: দশম জাতীয় নির্বাচনেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। শরিকদের জন্য আমাদের যেহেতু ছাড়তেই হচ্ছে, তার আগে দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনীত করা হচ্ছে ওই প্রার্থীর জন্য আওয়ামী লীগে স্বীকৃতি থাকবে। এটা মন ভাঙা নয় বরং ভবিষ্যতে এ সমস্ত স্বল্প সময়ে মনোনয়ন পাওয়াদের রাজনীতির মাঠে চাঙ্গা করবে বলে বিশ্বাস দলটির নীতি-নির্ধারকদের।

৭টি সংসদীয় আসন বাদে বাকি ২৯৩টি আসনেই ক্ষমতাসীনদের রয়েছে একাধিক প্রার্থী। ক্ষেত্রবিশেষে তা অর্ধ-শতাধিকের বেশি। শুধু বরগুনা-১ আসনে নৌকা প্রতীক চেয়ে ফরম সংগ্রহ করেছেন ৫১ জন।

পাল্টা-পাল্টি মিছিল, মিষ্টি খাওয়া ও বিতরণ, এক আসনে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন ফরম বিক্রির মতো বিষয়গুলোকে গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বর্ণনা করলেও সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটা গত ১০ বছরে সঠিক নেতৃত্ব সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতাকেও সামনে নিয়ে এসেছেন।আওয়ামী লীগ-মনোনয়ন-মনোনয়নপত্র

৯ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়া শুরু করে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এই চারদিন দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে বাসে ভরে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হাজির ছিল বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪ হাজার ২৩টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। যা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিক্রি হওয়া পরিসংখ্যানে প্রায় ১৪০০’র মতো বেশি।

উৎসব শেষে হয়েছে আগেই, শেষ কয়েকটা দিন ছিল প্রতীক্ষার। অঘটন না ঘটলে আজ শেষ হচ্ছে তারও। তারপরও আওয়ামী লীগের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে অনেককেই।