চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘১০ টাকার সদাই’ কিংবা নজিমুদ্দিনের ভিক্ষার টাকা

দেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মাগুরা পৌর এলাকায় ‘১০ টাকার সদাই’ নামে ব্যতিক্রমী এক ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে মাত্র ১০ টাকায় ২ থেকে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি আটা, ২৫০ গ্রাম খেঁজুর এবং ২৫০ গ্রাম চিনি বিতরণ করা হচ্ছে সেই দোকান থেকে।

এমন সুন্দর উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন ২০০৩ সালে মাগুরা থেকে এসএসসি পাস করা কয়েকজন যুবক আর কিছু শুভার্থী। ত্রিমাত্রিক ফাউন্ডেশন নাম দিয়ে তাদের হাতে গড়ে তোলা সংগঠনের ব্যানারে কাজটি করা হচ্ছে। মূলত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই জন্ম হয়েছিল এই ফাউন্ডেশনের। আর সেই কাজটিই আজ করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এ শুধু একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগই নয়, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষণীয় এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও বটে। সপ্তাহখানেক আগে আমাদের সামনে আরেক মহৎ দৃষ্টান্ত রেখেছেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ৮০ বছরের মো. নজিমুদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

ভিক্ষা করে সংসার চালানো এই বৃদ্ধ তার ঘর মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সেই অর্থ তিনি দান করে দেন করোনাভাইরাসে কর্মহীন মানুষের খাদ্যসহায়তার জন্য খোলা তহবিলে। সারাদেশের মানুষের কাছে হঠাৎ নায়ক বনে যাওয়া নজিমুদ্দিনকে সেদি অবাক চোখে দেখেছিল কোটি মানুষ। তাকে পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

এমন সব উদ্যোগই দেশের বিপদে, মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়। অসহায় মানুষগুলোর সহায় হয়ে পাশে দাঁড়ায়। যদিও এই ধরনের উদ্যোগকে আমরা ব্যতিক্রম বলছি, অথচ এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার হওয়ার কথা ছিল। মানুষের বিপদে তো মানুষকেই এগিয়ে আসারা কথা। কিন্তু সমাজ আর সময় পাল্টেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের ‘আখের’ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তারপরও আমরা মনে করি, এমন সব উদ্যোগ অন্যদেরকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ দেয়। কেননা সব কিছুর পরেও মানুষ মানুষের জন্য।