পবিত্র হজের খুতবায়, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মদীনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম। এজন্য দায়িত্বশীলদের সচেতন থাকা, নারীদের সম্মান করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয় এবং আল্লাহকে ভয় করে এমন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে খুতবায়। পরে বিশেষ মোনাজাতে বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা করেন সবাই।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দরবারে এভাবেই উপস্থিত হন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসল্লি। আরবি আরাফাত শব্দের অর্থ পরিচিতি। পবিত্র এ ময়দানেই প্রথম মানব আদম আলাই হি ওয়া সাল্লাম এবং হাওয়া আলাই হা ওয়া সাল্লামের প্রথম দেখা হয়।
ইহজগতের সকল চাহিদা বিসর্জন দিয়ে পাপমুক্তির আকুল প্রার্থনায় মুসলমানরা জমায়েত হন তিন দিকে পাহাড় ঘেরা দুই মাইল দীর্ঘ এবং দুই মাইল প্রস্থ আরাফাতের প্রান্তরে।
আরাফাতের জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের চূড়া যেখানে আদম এবং হাওয়ার পরিচয় হয়েছিল তার পাদদেশে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। ভাষণে মানুষ হিসেবে সবার সমান মর্যাদা এবং সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিলো। সেই ইতিহাস ধারণ করে প্রতি বছর লাখো মুসল্লি আরাফাত ময়দানে হাজির হন।
হজের আনুষ্ঠানিকতার মূল অনুষঙ্গ, পবিত্র আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন মদীনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম এবং মদিনার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক ডক্টর হুসেইন বিন আব্দুল আজিজ আল আশেঈখ।
নারীদের যথাযথ সম্মান দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং অধীনস্তদের হক আদায়ের কথা বলা হয় খুতবায়। ৪২ মিনিটের খুতবা শেষে এবার গত বছরের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো মোনাজাত করা হয়নি। তবে খুতবার পরপর প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান থেকে মোনাজাত করেছেন।
এর পরপরই আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে সকল হাজি এক সঙ্গে যোহর এবং আসরের নামাজ আদায় করেন।
সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত এ ময়দানেরই হাজিদের ইবাদত বন্দেগি চলবে। হজের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে হাজিরা পরবর্তী গন্তব্য ৫ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফার দিকে রওনা হবেন। মুজদালিফায় মাগরিব এবং এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করবেন আল্লাহর মেহমানরা। হজের সময় আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা, মিনা এবং আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিয়েছে সৌদি সরকার।








